ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান: তৃতীয় টেস্টের খেলাটি সরাসরি দেখুন, LIVE Score

england-vs-pakistan-3rd-test-live-score-2026

ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ চলছে বার্মিংহামের এজবাস্টনে। ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ম্যাচটি চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট জিতে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান LIVE Score

LIVE SCORE
Loading match…
Loading live score…

তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ডের চেয়ে ৩২০ রানে পিছিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে কোনো রান যোগ করার আগেই দুই উইকেট হারানোয় সফরকারীদের সামনে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কাও তৈরি হয়। তবে আজান আওয়াইস, শান মাসুদ ও বাবর আজমের অর্ধশতকের পর অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর রেকর্ডগড়া ইনিংসে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান করে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে সফরকারীরা। তিন ম্যাচের সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড লক্ষ্যটি পেরোতে পারলে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়

টস জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। স্বাগতিক পেসারদের সামনে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন সৌদ শাকিল। দলের অধিকাংশ ব্যাটার দুই অঙ্কের রানেও পৌঁছাতে পারেননি। মাত্র ৩৩ দশমিক ৫ ওভারে ১৩৩ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস।

ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশ টাং। তিনি ৪২ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। অলি রবিনসন ১৫ রানে এবং জফরা আর্চার ২৫ রানে তিনটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন।

ইংল্যান্ডের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে

পাকিস্তানের ১৩৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। বেন ডাকেট ১১, জর্ডান কক্স ৪ এবং জো রুট ৮ রান করে আউট হন।

একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৯ রান। সেখান থেকে দলের ইনিংস সামাল দেন এমিলিও গে ও হ্যারি ব্রুক। দুজন চতুর্থ উইকেটে ১০৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।

এমিলিও গে ৬০ রান করে ফেরেন। প্রথম দিনের খেলা শেষে হ্যারি ব্রুক ৫২ এবং ড্যান লরেন্স ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। ফলে প্রথম দিন শেষে ২৩ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা।

অভিষিক্ত পাকিস্তানি পেসার রাজাউল্লাহ প্রথম দিনেই জো রুট ও এমিলিও গের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন।

৪৫৩ রানে থামল ইংল্যান্ড

প্রথম দিনের ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিলেও মধ্য ও নিম্নক্রমের ব্যাটারদের ধারাবাহিক অবদানে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকেরা।

হ্যারি ব্রুক প্রথম দিনের অপরাজিত ৫২ রান থেকে নিজের ইনিংস বাড়িয়ে ৭৫ রান করেন। ড্যান লরেন্স করেন ৬৫ রান। জেমি স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ৬৯ রান এবং অলি রবিনসন করেন ৫০ রান। শেষ দিকে জফরা আর্চার অপরাজিত ৩২ রান যোগ করেন।

একসময় ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৮৯ ওভারে ৪৫৩ রান সংগ্রহ করে। এতে প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানের বিশাল লিড পায় স্বাগতিকেরা।

পাকিস্তানের হয়ে অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ ১৪৮ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ ইমরান ও মোহাম্মদ আলী দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই ধাক্কা পাকিস্তানের

৩২০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও পাকিস্তানের বিপদ কাটেনি। অলি রবিনসন প্রথম ওভারেই সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে দেন। দলীয় সংগ্রহে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই দুই উইকেট হারিয়ে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের মুখে পড়ে সফরকারীরা।

তবে আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় দ্বিতীয় দিনের খেলা আগেভাগে শেষ হলে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫২ রান। তখনো ইনিংস হার এড়াতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ২৬৮ রান।

আজান–মাসুদের জুটিতে ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান

তৃতীয় দিনের শুরুতে আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ সতর্কতার সঙ্গে ইংল্যান্ডের বোলারদের মোকাবিলা করেন। তৃতীয় উইকেটে তাদের ১২৫ রানের জুটিতে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠে পাকিস্তান।

আজান ৮৪ বলে ১০টি চারে ৫৯ রান করে আউট হলে জুটিটি ভাঙে। এরপর মাসুদের সঙ্গে আরও ৮৯ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক বাবর আজম।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করেও মাত্র পাঁচ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি মাসুদ। তিনি ১৪৮ বলে ১২টি চারের সাহায্যে ৯৫ রান করে ফেরেন।

বাবরের ব্যাটেও অর্ধশতক

মাসুদের বিদায়ের পর পাকিস্তানের ইনিংস এগিয়ে নেন বাবর আজম ও সৌদ শাকিল। পঞ্চম উইকেটে তারা ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।

বাবর ১০৩ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৭৬ রান করেন। শাকিল করেন ২৯ রান। গাজী ঘোরি ১৬ রানে আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

মোহাম্মদ ইমরান অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার সময়ও ইংল্যান্ডের চেয়ে দুই রানে পিছিয়ে ছিল পাকিস্তান। তখনই শুরু হয় রাজাউল্লাহর অবিশ্বাস্য পাল্টা আক্রমণ।

রাজাউল্লাহ–আব্বাসের অবিস্মরণীয় জুটি

নবম উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে ১২১ রানের অসাধারণ জুটি গড়েন রাজাউল্লাহ। ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেন এই অভিষিক্ত ক্রিকেটার।

রাজাউল্লাহ একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে থাকলেও অন্য প্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আব্বাস। তিনি ৬৭ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় নিজের ক্যারিয়ারসেরা ৪২ রান করেন।

আব্বাস আউট হওয়ার ১০ রান পর শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরেন রাজাউল্লাহ। তার আগে মাত্র ৬৩ বলে চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।

রাজাউল্লাহর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৪৪৯ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে গাস অ্যাটকিনসন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। অলি রবিনসন, জশ টাং ও ড্যান লরেন্স দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

অভিষেকেই রাজাউল্লাহর একাধিক রেকর্ড

টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ নয়টি ছক্কা মারার রেকর্ডে নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদির পাশে জায়গা করে নিয়েছেন রাজাউল্লাহ। ২০০৮ সালে নিজের অভিষেক টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই নয়টি ছক্কা মেরেছিলেন সাউদি।

মাত্র ৪৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে পাকিস্তানের অভিষিক্ত ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম টেস্ট ফিফটির রেকর্ডও গড়েছেন রাজাউল্লাহ। আগের রেকর্ডটি ছিল ফাহিম আশরাফের। তিনি নিজের অভিষেকে ৫২ বলে অর্ধশতক করেছিলেন।

টেস্ট অভিষেকে নয় নম্বর কিংবা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন রাজাউল্লাহ। দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশও অভিষেকে একই অবস্থানে নেমে ৮১ রান করেছিলেন।

এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন বাংলাদেশের আবুল হাসান রাজু। তিনি দশ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক টেস্টে ১১৩ রান করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার রেগি ডাফ ১০৪ এবং অ্যাশটন আগার ৯৮ রান করেছিলেন।

ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৩০ রান

পাকিস্তান ২০১৬ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ পেয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের করা ৪৪৯ রানের সুবাদে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে।

লক্ষ্য ছোট হলেও পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া রাজাউল্লাহ বল হাতেও পাকিস্তানের অন্যতম ভরসা হতে পারেন।

তিন ম্যাচের সিরিজে ইতোমধ্যে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। স্বাগতিকেরা লক্ষ্যটি পেরোতে পারলে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবে। অন্যদিকে, সফরের শেষ ম্যাচে জয় পেতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ইংল্যান্ডের ১০ উইকেট তুলে নেওয়া।