ইউরোপে আবার বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন, মে মাসে প্রায় ৩ হাজার

EU asylum Bangladesh

ইউরোপীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা আবার বেড়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ EU+ অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রায় ৩ হাজার আশ্রয় আবেদন করেছেন। আগের মাসের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় আবেদন এখনো প্রায় ৬ শতাংশ কম।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (EUAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশিরা আশ্রয় আবেদনকারী জাতীয়তাগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। আফগান ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের পরেই ছিল বাংলাদেশিদের অবস্থান। টানা আট মাস ধরে বাংলাদেশিরা শীর্ষ তিন আবেদনকারী জাতীয়তার মধ্যে রয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের হিসাবে মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে প্রথমবার আশ্রয় আবেদন করা বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৬০ জন। একই সময়ে মোট ৪২ হাজার ৫২৫ জন অ-ইইউ নাগরিক প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করেন।

ইতালিতেই যাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে ইতালি অনেক এগিয়ে রয়েছে। EUAA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের অধিকাংশ আশ্রয় আবেদন ইতালিতে করা হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে গ্রিস ও ফ্রান্স।

PortuBangla-র আগের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইতালিতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের আগমনও উল্লেখযোগ্য। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে ছিলেন।

২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ইউরোপে পৌঁছানো বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ইতালির মাধ্যমে প্রবেশ করেন।

EUAA বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৯৬ শতাংশই ছিল প্রথমবারের আবেদন। পুনরায় আবেদন ছিল মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ।

আশ্রয় পাওয়ার হার খুবই কম

আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার খুব কম।

EUAA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে স্বীকৃতির হার সাধারণত ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল।

অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদন করলেও তাদের খুব অল্প অংশই প্রথম সিদ্ধান্তে শরণার্থী মর্যাদা বা সহায়ক সুরক্ষা পাচ্ছেন।

বাংলাদেশের জন্য নতুন নিয়ম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতেও বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম যৌথ ‘নিরাপদ উৎস দেশ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে কোনো আবেদনকারী ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতন বা গুরুতর ঝুঁকির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে পারলে তার পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের অভিবাসন নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তনের প্রভাব বৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি আশ্রয় আবেদনকারীদের ওপরও পড়ছে।

নতুন ব্যবস্থায় কম স্বীকৃতির হার থাকা দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও দ্রুততর আশ্রয় প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হতে পারে।

২০২৫ সালে আবেদন ছিল ৩৭ হাজার

পুরো ২০২৫ সালে EU+ অঞ্চলে বাংলাদেশিরা প্রায় ৩৭ হাজার আশ্রয় আবেদন করেছিলেন। সংখ্যাটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম হলেও বাংলাদেশ ওই বছর ইউরোপে আশ্রয় আবেদনকারী শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর একটি ছিল।

তবে ২০২৬ সালের মে মাসে মাসওয়ারি আবেদন আবার বেড়েছে। ফলে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি বড় উত্থান না বলে সাম্প্রতিক মাসিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখা বেশি যথাযথ।

আশ্রয় বা অনিয়মিত অভিবাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে। বিশেষ করে ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিয়মিত কর্মী নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইইউর বাইরে অভিবাসীদের রিটার্ন হাব তৈরির পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ইউরোপের অভিবাসন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে আছে। বিশেষ করে ইতালিতে বাংলাদেশিদের আবেদন ও অনিয়মিত পথে আগমনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও আশ্রয় আবেদনে স্বীকৃতির হার অত্যন্ত কম।