ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভ ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। শনিবার শহরটিতে পরিকল্পিত বিক্ষোভকে সামনে রেখে এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে হ্যাম্পশায়ার অ্যান্ড আইল অব ওয়াইট কনস্ট্যাবুলারি।
শনিবার দুপুরের দিকে অভিবাসনবিরোধী একটি বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে এর বিরোধিতায় পাল্টা কর্মসূচিও রয়েছে। গত সপ্তাহে পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধ কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের জন্য নয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সব পক্ষের ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে কার্যকর করা হবে।
পরিচয় গোপন করতে মুখ ঢাকা যাবে না
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্ট ২০২৫-এর সেকশন ১৫৮-এর আওতায় নির্ধারিত এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে রাখা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
একই এলাকায় সেকশন ৬০এএ-এর অধীন আরেকটি আদেশও কার্যকর থাকবে। এর মাধ্যমে পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে কোনো ব্যক্তিকে মাস্ক বা পরিচয় আড়ালকারী বস্তু খুলে ফেলতে বলতে পারবে। নির্দেশ অমান্য করলে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এই বিশেষ ব্যবস্থা শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সহকারী প্রধান কনস্টেবল পল বার্তোলোমিও বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে মত প্রকাশের অধিকারকে পুলিশ সমর্থন করবে। তবে কেউ সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও জানান, নতুন ক্ষমতাগুলো বিক্ষোভ বন্ধ করার জন্য নয়; অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
আগের বিক্ষোভে আহত হন পুলিশ সদস্যরা
নতুন বিক্ষোভের আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর পোর্টসমাউথের ইস্টনি মেরিনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একটি ছোট নৌকায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পৌঁছানোর পর সেখানে প্রায় ২০০ মানুষ জড়ো হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বর্ডার ফোর্সের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হলেও কারও আঘাত গুরুতর ছিল না।
ওই ঘটনায় সহিংস বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যকে আক্রমণের অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পরে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে শনিবার পোর্টসমাউথ ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের একজন মন্ত্রী আগের সপ্তাহের ঘটনাকে ‘ঠাগিশ’ বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ হিসেবে নিন্দা করেছিলেন। রয়টার্সের তথ্যমতে, পোর্টসমাউথে বিক্ষোভের আগের দিন ডোভারেও মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ‘স্টপ দ্য বোটস’ স্লোগান দিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটান।
ছোট নৌকায় এসেছিলেন ১৪০ অভিবাসনপ্রত্যাশী
পোর্টসমাউথের আগের বিক্ষোভের পেছনে ছিল ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা একটি ছোট নৌকা। এতে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন।
নৌকাটি ফ্রান্সের শেরবুর্গ থেকে প্রায় ৮০ মাইল বা ১৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পোর্টসমাউথে পৌঁছায়। সাধারণত ছোট নৌকাগুলো কালে এলাকার কাছাকাছি থেকে যাত্রা করে ডোভারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। শেরবুর্গ থেকে পোর্টসমাউথের দিকে এই যাত্রা প্রচলিত রুটের তুলনায় ভিন্ন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ব্রিটেনে ছোট নৌকায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিবাসননীতি নিয়ে তীব্র বিতর্কের পাশাপাশি উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভও দেখা যাচ্ছে।
রয়টার্সের ৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম।
পুলিশ বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা নয়
হ্যাম্পশায়ার পুলিশ বলছে, নতুন বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য মানুষের প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করা নয়। বরং সাম্প্রতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে পরিচয় গোপন করে অপরাধে জড়ানোর সুযোগ কমানোই মূল লক্ষ্য।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখ ঢাকার নিষেধাজ্ঞা অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী এবং পাল্টা বিক্ষোভকারী—উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
পোর্টসমাউথের পরিস্থিতি এবং ছোট নৌকায় অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে শনিবারের কর্মসূচির দিকে এখন বিশেষ নজর থাকবে।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অভিবাসনসংক্রান্ত আরও খবর PortuBangla-র ইউরোপ ও প্রবাসী খবর বিভাগে যুক্ত করে এই প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক পুরোনো প্রতিবেদনগুলো ইন্টারনাল লিংক করা যেতে পারে।
