শেষ ম্যাচে অন্তত কিছুটা স্বস্তি নিয়ে দেশে ফেরার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু জাকার্তায় সেই প্রত্যাশার বদলে অপেক্ষা করল বড় এক ধাক্কা। ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯–২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় হামজা চৌধুরী–জামাল ভূঁইয়াদের দল। বাংলাদেশের হয়ে ব্যবধান কমান শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচেই অসহায় ছিল বাংলাদেশের রক্ষণ।
শুরু থেকেই রক্ষণে বিপর্যয়
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া। স্বাগতিকদের গতিময় আক্রমণ, বক্সের ভেতরে দ্রুত পাস আর বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতায় একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে।
১১ মিনিটে মিচেল বেকারের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ২০ মিনিটে আবারও গোল করেন তিনি। দুই গোল হজমের পরও ম্যাচে ফেরার মতো নিয়ন্ত্রণ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
৩২ মিনিটে রিজকি রিধোর গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। তবে চার মিনিট পর বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেন শাহরিয়ার ইমন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩–১ করেন তিনি।
কিন্তু সেই গোল বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার শুরু হয়ে ওঠেনি। বরং এরপর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে স্বাগতিকেরা।
বিরতির আগেই ছয় গোল
ইমনের গোলের পর খুব দ্রুতই আবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠান বেকার। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণ বারবার ভেঙে পড়ায় গোলের সুযোগ তৈরি করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি ইন্দোনেশিয়াকে। বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬–১।
গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ কয়েকটি ভালো সেভ না করলে প্রথমার্ধের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। তবে রক্ষণভাগ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় একের পর এক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।
পাঁচ গোল বেকারের
বাংলাদেশের রক্ষণের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ছিলেন মিচেল বেকার। ম্যাচে একাই পাঁচ গোল করেন ইন্দোনেশিয়ার এই ফরোয়ার্ড।
শারীরিক সক্ষমতা, বক্সের ভেতরে অবস্থান নেওয়া এবং পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে বড় ব্যবধান তৈরি করেন তিনি।
বাংলাদেশের মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়া থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের গতি থামানো যায়নি। মাঝমাঠ পেরিয়ে স্বাগতিকেরা যখনই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছে, তখনই বিপদ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় গোল ফারহানের
দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সময় ইন্দোনেশিয়ার গোলের গতি কমিয়ে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচের শেষ ভাগে আবারও বাংলাদেশের রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়।
এর মধ্যেই বদলি হিসেবে নামা ফারহান আলী ওয়াহিদ বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি করেন। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সান্ত্বনার গোল। শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়া আরও কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে স্কোরলাইন নিয়ে যায় ৯–২-এ।
তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম বাংলাদেশের
ফিফা আসিয়ান কাপের পুরো টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা হয়ে উঠেছে রক্ষণ ও গোল করার ব্যর্থতা।
প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১–০ গোলে হার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের বিদায়।
শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারলেও হজম করতে হয়েছে আরও ৯ গোল।
ফলে তিন ম্যাচে বাংলাদেশের গোল মাত্র ২টি, বিপরীতে হজম করেছে ১৩ গোল। তিন ম্যাচের কোনোটিতেই পয়েন্ট নিতে পারেনি দলটি।
বাংলাদেশের পুরো ফিফা আসিয়ান কাপের ম্যাচ সূচি ও ম্যাচসংক্রান্ত তথ্য এখানে দেখা যাবে।
