কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) মিলনায়তন আরএসএস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে ব্যবহার করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তা ও চর্চার জন্য থাকা অবকাঠামোতে এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন কী ছিল, তা জানতে চান তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা। সেখানে যাদবপুর ও এসআরএফটিআইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের নিন্দা জানান তিনি।
আপনার সরবরাহ করা দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জেন-জি আন্দোলন: প্রজন্ম ও প্রতিরোধের ঐক্য’ শীর্ষক সম্মেলনে গান্ধী ভবনের বাইরে কয়েক শ শিক্ষার্থী জড়ো হন। আলোচনায় ক্যাম্পাসে হামলার পাশাপাশি এসআইআর ও ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বিল, ২০২৬ বাতিলের দাবিও উঠে আসে।
নেহার বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনসহ অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য। সেখানে তাঁরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করবেন, মত প্রকাশ করবেন। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এই স্বাধীন পরিসরই ডানপন্থী সংগঠনগুলোর অপছন্দ।
ক্যাম্পাসে বারবার হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পিএইচডি গবেষক। যন্তর মন্তরের আন্দোলন, যাদবপুর ও এসআরএফটিআইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ থামানোর চেষ্টা সফল হবে না।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর এসআরএফটিআইয়ে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (এবিজিপি) অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁরা অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করলে সংগঠনটির সদস্যরা তাঁদের মারধর করেন। অন্যদিকে এবিজিপির দাবি, তাদের আয়োজন পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এবিভিপি।
সরবরাহ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া এসআরএফটিআই ছাত্রসংসদের সহসভাপতি ব্লসম হাজারিকা অভিযোগ করেন, মিলনায়তন ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে। তবে তাঁরা ভয় না পেয়ে শিল্প ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
নেহা এসআইআর নিয়েও বিজেপির সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এগুলো নেহার রাজনৈতিক অভিযোগ; সরবরাহ করা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিজেপি বা নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া নেই।
এদিকে নেহার অংশগ্রহণ নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিল যাদবপুরের এবিভিপি শাখা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ইমেইলে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রশ্ন তোলে। আইসার স্থানীয় নেতৃত্ব পাল্টা বলে, রাজনৈতিক নেতা এবং ছাত্রকর্মী ও গবেষকদের মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন।
