অক্টোবরেই বাড়তি বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

government employees salary

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী চলতি অক্টোবর মাসের বেতনে বাড়তি অর্থ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে মূল বেতন বাড়লেও নির্দিষ্ট কিছু ভাতা এখনই নতুন বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করা হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব ভাতা নির্ধারণ করা হবে ২০২৬ সালের ৩০ জুনে পাওয়া মূল বেতন ধরে।

অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের বেতন থেকে বাড়তি অর্থ পরিশোধের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের অনলাইন কার্যক্রমও চলছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভাতা নির্ধারণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতাগুলো পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও পরিশোধ করতে হবে।

সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য। অর্থাৎ প্রজ্ঞাপনটি বিশেষভাবে উল্লিখিত শতাংশভিত্তিক ভাতার হিসাবের ভিত্তি নির্ধারণ করেছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বাড়তি মূল বেতন একবারে পুরোটা দেওয়া হচ্ছে না। ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম ধাপে, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৫০ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ওই পার্থক্যের যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে। এই শতাংশগুলো মোট মূল বেতনের ওপর নয়, নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্যের ওপর প্রযোজ্য।

বাস্তবায়নের সময়নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডদশম–বিংশ গ্রেড
জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশবেতনের পার্থক্যের ৫০ শতাংশ
জানুয়ারি–জুন ২০২৭বেতনের পার্থক্যের ৭০ শতাংশবেতনের পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ
জুলাই ২০২৭ থেকেনতুন মূল বেতন শতভাগনতুন মূল বেতন শতভাগ

ঘোষিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য ৫ অক্টোবর থেকে আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। অর্থ বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার কথা। বকেয়ার পরিমাণ সবার সমান হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, আগের মূল বেতন ও নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতনের ওপর তা নির্ভর করবে।