জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতি নিয়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৯৯৭ জন পুলিশ ও জেনদার্ম, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এসব তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ ও লিমোজ থেকে।
প্যারিসেই গ্রেপ্তার ৮৫৫
রাজধানী প্যারিসে সহিংসতার ঘটনায় ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তারের রেকর্ড বলে জানিয়েছে।
প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পুলিশের সঙ্গে ছোট ছোট বিক্ষোভকারী দলের সংঘর্ষও হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে চুরি করা মালামাল রাখার অভিযোগ, সহিংসতার উদ্দেশ্যে দলবদ্ধ হওয়া এবং ভাঙচুরের অভিযোগে আটক হয়েছেন।
আগুনে পুড়ল লিমোজের ঐতিহাসিক টাউন হল
ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলীয় শহর লিমোজে ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে ভবনটির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া মার্সেই, লিওঁ, আভিনিওঁ ও গ্রেনোবলেও সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে একজনের মৃত্যু
শনিবারের সহিংসতায় এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন। দেশজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভের বড় অংশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে।
কেন বিক্ষোভ হচ্ছে ফ্রান্সে
সাম্প্রতিক আন্দোলনের শুরু হয়েছিল মূলত শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে। পরে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ যুক্ত হয়।
এর আগে ১ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের একদিনেই ১ হাজার ৯৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়, যাদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সহিংসতার নিন্দা ম্যাক্রোঁর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা ও লুটপাটের নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবি এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখার কথা বলেছেন।
ফরাসি সরকার বলছে, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের সদস্যরা সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের আগের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যবহৃত কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণের কাজ চলছে।
