ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কা সামলাতে কানাডার ৬২০ কোটি ডলারের প্যাকেজ

canada steel auto support us tariffs

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চাপ থেকে ইস্পাত, গাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতকে সুরক্ষা দিতে ৮৭০ কোটি কানাডীয় ডলারের সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কানাডা। মার্কিন মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬২০ কোটি ডলার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, শুল্কের কারণে সীমান্তের দুই পাশের শিল্পই দুর্বল হচ্ছে, বাড়ছে পরিবারের খরচ এবং কমছে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পনাটি ঘোষণা করেন কার্নি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং উৎপাদনব্যবস্থা আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এতে।

কার্নির বক্তব্য, কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি বদলে দিয়েছে মার্কিন শুল্কনীতি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্টারিওর শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে অনিশ্চয়তায়।

পরিকল্পনার বড় অংশ যাচ্ছে ইস্পাত খাতে। পাঁচ বছরের জন্য যৌথ ইস্পাত তহবিলে কেন্দ্রীয় সরকার দেবে ৩৫৫ কোটি এবং অন্টারিও সরকার ১৬৭ কোটি কানাডীয় ডলার। এই অর্থ দিয়ে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং কানাডার ইস্পাতের জন্য নতুন বিদেশি বাজার তৈরিতে সহায়তা করা হবে। সরকারি কেনাকাটায় দেশীয় ইস্পাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

গাড়িশিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২৫০ কোটি কানাডীয় ডলার। সরকারি ঘোষণায় এই বিনিয়োগের মেয়াদ দুই বছর, পাঁচ বছর নয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ১৫০ কোটি এবং অন্টারিওর অংশ ১০০ কোটি ডলার।

গাড়ি প্রস্তুতকারকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন লাইন উন্নয়নে এই অর্থ দেওয়া হবে। পাশাপাশি খাতটির পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর অন্টারিওর ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামোতেও কেন্দ্রীয় সরকার তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শুল্কবিরোধের প্রভাব ইতিমধ্যে গাড়ি বাণিজ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কার্নি। তাঁর দেওয়া হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার গাড়ি রপ্তানি ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। বিপরীতে কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি রপ্তানি কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। তবে এই তুলনার সময়কাল সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই।

কার্নি বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। আলোচনায় কোনো সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। তবে কানাডা দরকষাকষির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারে রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও নিয়েছে তাঁর সরকার।

বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই কানাডার রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

অভিযোগে শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির পাল্টা শুল্কসংক্রান্ত মন্তব্য এবং ডাগ ফোর্ডের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচারিত শুল্কবিরোধী বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ এসেছে। কার্নি ও ফোর্ড অনুচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ফোর্ডের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে যে ফলই আসুক কিংবা হোয়াইট হাউসে যিনিই থাকুন, আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন না তিনি।