জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে সন্তুষ্ট হতে পারেনি ফ্রান্সের শ্রমিক সংগঠনগুলো। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার আলোচনা শেষে আগামী ৫ নভেম্বর বড় পরিসরে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে তারা। সিজিটির সাধারণ সম্পাদক সোফি বিনে কর্মীদের ধর্মঘট আরও বিস্তৃত করার ডাক দিয়েছেন।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর মাতিনিয়ঁতে বৈঠকটি হয়। বৈঠক শেষে বিনে অভিযোগ করেন, চলমান বিক্ষোভ ও শ্রমিকদের দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঘোষণা করেননি। তাঁদের দাবিও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিজিটি নেত্রীর মতে, আন্দোলনকে এখন আরও জোরদার করার সময় এসেছে। ৫ নভেম্বর থেকে ধর্মঘটকে কর্মসূচির কেন্দ্রে রাখতে চান তিনি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের নিয়ে ওই দিনের কর্মসূচিতে প্রায় সব প্রধান শ্রমিক সংগঠন অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে আগামী শনিবারও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে সিজিটির। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের একটি সমন্বয়কারী পক্ষ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের পর কয়েকটি শহরে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিএফডিটির সাধারণ সম্পাদক মারিলিজ লেওঁ চান, ৫ নভেম্বরের আগেই শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কার্যকর সামাজিক পদক্ষেপ নিক।
তবে আলোচনায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন সিএফটিসির সভাপতি সিরিল শাবানিয়ে। তাঁর ভাষ্য, সরকার এ বিষয়ে আলোচনার দরজা খুলেছে। প্রধানমন্ত্রীও আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। যদিও মজুরি কত বাড়তে পারে কিংবা কবে সিদ্ধান্ত হবে, তা জানানো হয়নি।
বৈঠকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।
আগামী সোমবার শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রের সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের আবার বৈঠকের কথা রয়েছে। সরকার চালু করা মতামত জানানোর প্ল্যাটফর্মে আসা দাবিগুলোর জবাবে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থার উন্নয়ন এবং অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির আবেদন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’ বাতিলের দাবিও রয়েছে তাদের। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে।
