শখের গোখরার কামড়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন চাঁদপুরের ইকবাল

pet cobra bite

শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষেছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন। পরিবারের সদস্যদের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও প্রায় তিন মাস ধরে সাপটি লালন-পালন করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই গোখরার কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো সাপটিকে খাবার দিতে কাঠের বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল। এ সময় হঠাৎ সাপটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। পরে অসহ্য যন্ত্রণার কথা স্ত্রী রিনা আক্তারকে জানান তিনি।

পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মাছ ধরার জালে আটকা পড়া সাপ নিয়ে আসেন বাড়িতে

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার একটি জালে আটকে থাকা গোখরা সাপটি উদ্ধার করেন ইকবাল। পরে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

সাপটির জন্য আলাদা কাঠের বাক্সও তৈরি করেছিলেন তিনি। নিয়মিত মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হতো সাপটিকে।

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী পালনের শখ রয়েছে তাঁর স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

বিষধর সাপ বাড়িতে না রাখতে স্বামীকে বারবার নিষেধ করেছিলেন রিনা। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করেই সাপটি পুষে যাচ্ছিলেন ইকবাল।

‘কারও কথা শোনেননি’

ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে তিনি কারও কথা শোনেননি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে সেটির কামড়ের শিকার হন তিনি।

হাতে ফোলা নিয়ে হাসপাতালে

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. সাবিন ইশতিয়াক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবালকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তাঁর হাত ফুলে গিয়েছিল।

উপসর্গ দেখে বিষধর সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয় এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসক জানান, বর্তমানে ইকবালের চিকিৎসা চলছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গোখরা সাপটিকে মেরে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার।