পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। কয়েক দিন ধরে রসিও স্কয়ারে অবস্থান, মিছিল ও সমাবেশ করছেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের অভিযানে তাঁবু সরিয়ে দেওয়া এবং ৫৫ জনকে আটকের পরও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি তাঁরা।
মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ রসিও স্কয়ারে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু সরিয়ে দেয়। একই সময়ে পোর্তোর Praça D. João I-তেও অবস্থান কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া হয়। লিসবনে অভিযানের সময় ৫৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের অভিযানের পরও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবার রসিও স্কয়ারে জড়ো হন হাজারো মানুষ। সেখানে তাঁরা সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসনের দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বাড়ি কোনো বিশেষ সুবিধা হতে পারে না।’
আবার রসিও স্কয়ারে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত
বুধবারও রসিও স্কয়ারে ফের জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে অনুষ্ঠিত ‘পপুলার অ্যাসেম্বলি’তে রাতভর অবস্থানের বিষয়ে ভোট হয়।
প্রথমে তাঁবু নিয়ে অবস্থান করার পক্ষে ভোট পড়লেও পুলিশের সতর্কতার পর নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁবু সরিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পক্ষে ৩৩৮ ভোট পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের পর জনসমাগম ও তাঁবু রেখে অবস্থান করা আইনসম্মত নয়। এর পরও বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
শুরু পোর্তো থেকে, ছড়িয়ে পড়ে লিসবনে
পর্তুগালে সাম্প্রতিক আবাসন আন্দোলনের শুরু হয় ১০ অক্টোবর পোর্তোতে। পরে তা লিসবনসহ আরও কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
১১ অক্টোবর লিসবন ও পোর্তোতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বাড়িভাড়া, আবাসনের মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেন। একই ধরনের কর্মসূচি আভেইরো, ব্রাগা ও ফুনশালেও আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়।
এরপর রসিও স্কয়ারে প্রায় ২০০টি তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পোর্তোর Dom João I স্কয়ারেও প্রায় ১০ দিন ধরে একই ধরনের অবস্থান চলছিল।
‘বেতন দিয়ে বাসাভাড়া দেওয়া কঠিন’
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পর্তুগালে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম এমনভাবে বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে এর সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে বাড়ির দাম ও ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তোর মতো বড় শহরে পরিস্থিতি আরও কঠিন। তরুণ ও মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য স্বাভাবিক ও সাশ্রয়ী বাসস্থান পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
১৭ অক্টোবর লিসবনের কেন্দ্রীয় এলাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে বড় মিছিলও হয়। আয়োজক ট্রেড ইউনিয়ন CGTP দাবি করে, ওই মিছিলে কয়েক দশ হাজার মানুষ অংশ নেন। পুলিশ অবশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
সরকারের আবাসন নীতিরও বিরোধিতা
বিক্ষোভকারীরা সরকারের প্রস্তাবিত কিছু আবাসন নীতিরও বিরোধিতা করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন আইন কার্যকর হলে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ সহজ হতে পারে এবং নতুন চুক্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর সরকার বলছে, বাড়ির মালিকদের আস্থা বাড়ানো এবং বাজারে আরও বাসস্থান আনার জন্য আইন পরিবর্তন প্রয়োজন।
তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আবাসনকে বিনিয়োগের পণ্য নয়, মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাঁদের দাবি, সরকারের নীতিতে সাশ্রয়ী বাড়ি ও ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
রসিও স্কয়ারে আন্দোলনকারীরা আবারও অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় লিসবনের আবাসন আন্দোলন শিগগিরই থামছে না—এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।
