জরুরি পরিস্থিতিতে খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ বিভিন্ন দেশের, কেন এই প্রস্তুতি

emergency food water stockpile

যুক্তরাজ্য থেকে জাপান—জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে খাবার-পানি মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সাইবার হামলা কিংবা সামরিক সংঘাতে স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হলে পরিবারগুলো যেন কয়েক দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেটিই এসব নির্দেশনার উদ্দেশ্য।

বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় ৩৩টি দেশের নাম এসেছে। তবে এটি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মিলিত সতর্কবার্তা নয়। দেশগুলোর পরামর্শের সময়, প্রেক্ষাপট ও পরিধি আলাদা; কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশনা জাতীয় পর্যায়ের, আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য।

ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের মার্চে ঘোষিত ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’তে জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির প্রস্তুতিকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ রয়েছে এতে।

কোথাও তিন দিন, কোথাও এক সপ্তাহের প্রস্তুতি

সব দেশের পরামর্শ এক নয়। জাপানের সরকারি নির্দেশনায় অন্তত তিন দিনের খাবার ও পানি রাখতে বলা হয়েছে। বড় ধরনের দুর্যোগের জন্য সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মজুতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পানীয় পানির ক্ষেত্রে জনপ্রতি দৈনিক প্রায় তিন লিটার হিসাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে দেশটিতে।

জার্মানির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা বিবিকে সম্ভব হলে ১০ দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর প্রস্তুতি নিতে বলছে। তবে তিন দিনের মজুতও সহায়ক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশপ্রস্তুতির বিষয়ে সরকারি পরামর্শ
জাপানঅন্তত তিন দিন, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের খাবার-পানি
জার্মানিসম্ভব হলে ১০ দিনের প্রস্তুতি; তিন দিনের মজুত দিয়েও শুরু করা যায়
নরওয়েএক সপ্তাহের প্রস্তুতি; জনপ্রতি প্রায় ২০ লিটার পানীয় পানি
সুইডেনঅন্তত এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ, পানি ও দোকান থেকে খাবার কেনার সুযোগ ছাড়াই চলার প্রস্তুতি
ফিনল্যান্ডঅন্তত তিন দিনের পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী
যুক্তরাজ্যকয়েক দিনের জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর উপযোগী খাবার, পানি ও সরঞ্জাম

নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনাতেও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাবার-পানির সঙ্গে আর কী রাখতে বলা হচ্ছে

জরুরি মজুতের তালিকায় মূলত দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীই রয়েছে। দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং রান্না ছাড়াই খাওয়া যায়—এমন খাবার, পানীয় পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারিচালিত রেডিও রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

শিশুখাদ্য, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং পোষা প্রাণীর খাবার-পানির প্রয়োজনও বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে আলোর জন্য মোমবাতির চেয়ে টর্চকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি নির্দেশনায়।

জাপানে খাবার ও পানির পাশাপাশি বহনযোগ্য শৌচাগার এবং টয়লেট পেপারের মতো সামগ্রী রাখার কথাও বলা হয়েছে। নিয়মিত ব্যবহার করা দীর্ঘস্থায়ী খাবার কিছুটা বেশি কিনে রাখা, মেয়াদ কাছাকাছি এলে ব্যবহার করা এবং ব্যবহৃত পরিমাণ আবার কিনে রাখার পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিয়েছে দেশটির দুর্যোগবিষয়ক কর্তৃপক্ষ।

এটি কি আসন্ন যুদ্ধের সতর্কবার্তা

এসব নির্দেশনাকে সরাসরি আসন্ন যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই। সামরিক সংঘাত সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি হলেও ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, দুর্ঘটনা এবং পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও প্রস্তুতির কারণ।

নরওয়ের ডিএসবি জানিয়েছে, পরিবারগুলো প্রাথমিকভাবে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারলে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে পারে। প্রস্তুতির মধ্যে শুধু পণ্য মজুত নয়, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি সম্পর্কে হালনাগাদ জানতে পড়ুন আগামী ৭ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস।

যুক্তরাজ্যের নির্দেশনায় একসঙ্গে সব সামগ্রী কেনার পরিবর্তে সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে জরুরি মজুত গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন বিবেচনা করে নিয়মিত কেনাকাটার সঙ্গে এসব সামগ্রী যোগ করার পরামর্শ রয়েছে।