ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদের জন্য ২০২৭ বা ২০২৮ সালে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারে আর্মেনিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এই সময়সীমাকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইইউতে যোগ দেওয়া কিংবা রাশিয়াকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোটে থাকার বিষয়ে আর্মেনিয়ার জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ব্রাসেলসে ইউরোনিউজ আয়োজিত ইইউ সম্প্রসারণ সম্মেলনে পাশিনিয়ান এসব কথা বলেন। আর্মেনিয়া এখনো সদস্যপদের আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়নি।
পাশিনিয়ান জানান, তাঁর সরকার এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা ইইউর পূর্ণ সদস্যপদের আবেদন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাবে। আগামী বছর কিংবা ২০২৮ সালে সেই আবেদন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
গত আগস্টে জাতীয় সংসদে পাশিনিয়ান জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকার অদূর ভবিষ্যতে ইইউ সদস্যপদের আবেদন করতে চায়। দক্ষিণ ককেশাসের দেশটির এই উদ্যোগ রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার প্রচেষ্টার অংশ।
ইইউতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে আর্মেনিয়ার গণতন্ত্র সুরক্ষার কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেন পাশিনিয়ান। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্র আর্মেনিয়ার মানুষের কাছে পরিস্থিতিনির্ভর কোনো পছন্দ নয়। গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
পাশিনিয়ান বলেন, আর্মেনিয়ার জনগণের সামনে বিকল্প পথ তৈরি করাই তাঁর সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সমাজ ও প্রতিবেশী অঞ্চলে এমন ধারণা ছিল যে আর্মেনিয়ার সামনে অন্য কোনো পথ নেই। সেই ধারণা বদলাতে চান তিনি।
ইউরোপের দিকে আর্মেনিয়ার অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধসহ পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। পাশিনিয়ান এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুমুখী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কোনো সম্পর্কে ভারসাম্য না থাকলে ঝুঁকি থেকে যায়।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের আর্মেনিয়াকে ‘পরবর্তী ইউক্রেন’ হওয়ার সতর্কবার্তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় পাশিনিয়ানকে। এই তুলনা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, তাঁর অগ্রাধিকার দেশের স্বাধীনতা আরও সুসংহত করা। আরও স্বাধীন ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর্মেনিয়ার বৈধ অধিকার।
ইইউতে যোগ দেওয়া এবং রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নে থাকার মধ্যে যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে বিষয়েও সচেতন বলে জানান আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। কোন পথে দেশ এগোবে, সেই পছন্দ জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
আর্মেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে ভিসা উদারীকরণ নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রক্রিয়া ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এটি ইইউ সদস্যপদের আবেদন ও সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া থেকে পৃথক।
প্রতিবেশী জর্জিয়ার ইউরোপমুখী আকাঙ্ক্ষা আর্মেনিয়াকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান পাশিনিয়ান। তাঁর মতে, জর্জিয়ার সাফল্য আর্মেনিয়ার নাগরিকদের কাছে নিজেদের ইউরোপীয় ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
