যুক্তরাজ্য সরকার নতুন একটি আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর নতুন নিয়মগুলো সংসদের পূর্ণাঙ্গ ভোট ছাড়াই দ্রুত গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে মন্ত্রীরা “সেকেন্ডারি লেজিসলেশন” পদ্ধতিতে দ্রুত নতুন আইন প্রবর্তনের সুযোগ পাবেন। এতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভূমিকা সীমিত থাকবে এবং পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক বা ভোট ছাড়াই ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যাবে।
সরকার বলছে, এতে সংসদের কিছু ভূমিকা থাকবে এবং তারা নতুন নিয়মগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। তবে সমালোচকদের মতে, এতে সংসদের কার্যকর ক্ষমতা কমে যাবে।
এই আইন কার্যকর হলে খাদ্য নিরাপত্তা মান, কার্বন মূল্য নির্ধারণ এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ইইউর নিয়মের সঙ্গে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত সমন্বয় করা সম্ভব হবে। সরকার মনে করছে, এতে বাণিজ্য সহজ হবে এবং রপ্তানিকারকদের জন্য জটিলতা কমবে।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি-র শ্যাডো বিজনেস সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে “সংসদ দর্শকের ভূমিকায় নেমে আসবে, আর ব্রাসেলস শর্ত নির্ধারণ করবে”।
অন্যদিকে Nigel Farage এই পরিকল্পনাকে “ইইউ নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর গোপন প্রচেষ্টা” বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের এমপি Munira Wilson বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন হলেও সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া “অগণতান্ত্রিক” হবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা যুক্তরাজ্যের স্বার্থে। তিনি জানান, এ ধরনের পদক্ষেপ বাণিজ্য সহজ করবে এবং এর ফলে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম কমতে পারে।
সরকার আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত খাদ্য মান সংক্রান্ত চুক্তি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে বিলিয়ন পাউন্ড মূল্য সংযোজন করতে পারে।
সরকার আশা করছে, আগামী গ্রীষ্মকালীন এক সম্মেলনে খাদ্য মান ও কার্বন ট্রেডিং সংক্রান্ত ইইউর সঙ্গে নতুন চুক্তি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কিছু খাতে ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
