পর্তুগালের বার্ষিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রতিবেদন RASI 2025-এ উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছরে ২৩,১৩৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে দেশত্যাগ করেছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের জন্য ২৩,১৩৪টি নোটিশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৯৮টি প্রশাসনিক বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ৯১টি ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
এর আগের বছরের RASI 2024-এর তুলনায় এই সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৪৪৪ জন অভিবাসীকে দেশত্যাগের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগেই এই বিপুল সংখ্যক নোটিশ জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের লক্ষ্যে প্রণীত আইনটি গত ১৯ মার্চ সংসদে উত্থাপন করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে পাস হয়নি।
এদিকে ২০২৫ সালে মোট ২৫২ জন অভিবাসী দেশত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন প্রশাসনিক বহিষ্কার, ২২ জন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এবং ১৬০ জন আদালতের নির্দেশে দেশ ছাড়েন।
সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে, ২,১৪০ জনকে পর্তুগালে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যাদের সবাই বিমানপথে এসেছিলেন। প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বৈধ কাগজপত্রের অভাব (১,১৯৭ জন) এবং ভিসা বা বৈধ আবাসন অনুমতির অভাব (৪০০ জন)। এদের বেশিরভাগই Brazil ও Argentina-এর নাগরিক।
প্রতিবেদন আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪,৬২৭টি তদারকি অভিযান চালিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩,৫০০ বেশি। এসব অভিযানে মোট ৮৫,৮৪০ জনকে শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে ১,০০৬ জনকে অনিয়মিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের অপরাধ ২৫১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,২০৫টি ঘটনায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ‘স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিয়ে’ (marriages of convenience), যা ২০২৪ সালের ১২টি থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৬০টিতে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম SIC Notícias জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি পর্তুগালের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
