প্রথম লেগে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগেও এগিয়ে ছিল পিএসজি। শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইনের গোলে বায়ার্ন মিউনিখ কিছুটা আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হয়নি জার্মান ক্লাবটির। নাটকীয় উত্তেজনার ম্যাচ শেষে উল্লাসে মেতে ওঠে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি।
শেষ বাঁশি বাজতেই কোচ লুইস এনরিকে ও তার শিষ্যদের উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদার আসরে দীর্ঘদিন ব্যর্থতায় ভোগা পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুললেন স্প্যানিশ এই কোচ। গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল প্যারিসের ক্লাবটি। এবার তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ আর্সেনাল।
আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ফাইনাল। সেমিফাইনালে আর্সেনাল দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে পিএসজি বায়ার্নকে মোট ৬-৫ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। প্রথম লেগে ৫-৪ ব্যবধানে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগ ১-১ গোলে ড্র করে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। মাত্র ৩ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোলটিতে বড় অবদান ছিল খাবিচা কাভারাতস্কেলিয়ার। বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে বক্সে ঢুকে ফাঁকায় থাকা দেম্বেলের দিকে বল বাড়ান জর্জিয়ান এই তারকা। দেম্বেলে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে জড়িয়ে দেন।
প্রথমার্ধে দুটি হ্যান্ডবলের ঘটনায় পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেছিল বায়ার্ন। তবে রেফারি দুবারই খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বিতর্কিত ওই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় স্বাগতিক সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে এ দুটি ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
প্রথমার্ধে মিকেল অলিসের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার নেভেসের একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভও জামাল মুসিয়ালার শট প্রতিহত করে দলকে এগিয়ে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলই কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে। ম্যাচ যখন প্রায় শেষ, তখনই নাটকীয়তা তৈরি করেন হ্যারি কেইন। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আলফনসো ডেভিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। এতে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরলেও সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় আর সমতা ফেরাতে পারেনি বায়ার্ন।
২০১৯ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর থেকে আর ফাইনালে উঠতে পারেনি বাভারিয়ানরা। অন্যদিকে পিএসজি এখন টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে বিভোর।
