বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১ ও ১২তম আসরে ম্যাচ ফিক্সিং, বেটিং ও দুর্নীতির অভিযোগে এক ক্রিকেটারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে নেতৃত্ব দেন বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। অভিযোগ গঠনের পর সংশ্লিষ্টদের সাময়িকভাবে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—চট্টগ্রাম রয়্যালসের লজিস্টিকস ম্যানেজার লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী তৌহিদুল হক তৌহিদ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবং সিলেট স্ট্রাইকার্সের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী। এছাড়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্বে থাকা সামিনুর রহমানকে বিসিবির ‘এক্সক্লুডেড পার্সন পলিসি’ অনুযায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা, তদন্ত কাজে বাধা দেওয়া এবং ক্রিকেট ম্যাচে বেটিংয়ের মতো অভিযোগ রয়েছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরা ও বাজিকর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তিনি কখনো বিপিএলে খেলেননি বলে জানিয়েছে বিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, জুয়ায় সম্পৃক্ততা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। শুধু সর্বশেষ আসর নয়, বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরেও অনিয়ম ও ফিক্সিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
অভিযুক্তদের আগামী ১৪ দিনের মধ্যে বিসিবির কাছে লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
