ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় দিচ্ছে না পর্তুগাল ও ইতালি। ইউরোপীয় কমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গ্রীসের মতো পর্তুগাল ও ইতালিও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য আঙুলের ছাপ ও মুখের স্ক্যানিং প্রক্রিয়া শিথিল করতে পারে। তবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।
ইইউর নতুন ডিজিটাল ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ (ইইএস) চালুর পর ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি ও যাত্রী ভোগান্তির ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে যাওয়া ভ্রমণকারীদের অনেকেই সীমান্তে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত বছরের অক্টোবরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে থেকে শেনজেন এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন করতে হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, সামগ্রিকভাবে ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজ করছে। তবে বাস্তবে অনেক যাত্রী দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছেন এবং কেউ কেউ ফ্লাইটও মিস করছেন।
গত মাসে মিলানের লিনাতে বিমানবন্দর থেকে ম্যানচেস্টারগামী ইজি জেটের একটি ফ্লাইটে উঠতে না পেরে শতাধিক যাত্রী বিপাকে পড়েন। বিমান সংস্থাটি পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ সারিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করে। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে রায়ানএয়ারও।
এদিকে গ্রীসে বাস্তবে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য বায়োমেট্রিক চেক অনেক ক্ষেত্রে শিথিল করা হলেও ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এটি স্থায়ীভাবে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য করা যাবে না।
কমিশন বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সীমান্তপথে সাময়িক ছাড় দেওয়া যেতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বা সার্বিক ছাড় ইইউ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইউরোপীয় কমিশন আরও জানিয়েছে, পর্তুগাল ও ইতালির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দুই দেশই নিশ্চিত করেছে যে তারা কোনো জাতীয়তাকে এই বায়োমেট্রিক চেক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।
