লিবিয়ার আটককেন্দ্র থেকে দেশে ফিরলেন ১৭০ বাংলাদেশি

libya-bangladeshi-migrants-return-2026

ভূমধ্যসাগরীয় দেশ Libya-এর বেনগাজি শহরের গানফুদা আটককেন্দ্রে বন্দিদশায় থাকা ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরেছেন। আগামী ২৪ ও ৩১ মে আরও দুটি ফ্লাইটে প্রায় ৩৫০ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport-এ পৌঁছান। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে। পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিয়েছে International Organization for Migration এবং লিবিয়া সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফেরা অনেক বাংলাদেশিই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় অনিয়মিত পথে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা অপহরণ, নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ফেরত আসা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মানবপাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

আইওএম-এর পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিকে বাড়ি ফেরার খরচ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

গত ১৭ মে ত্রিপোলির Tajoura Detention Center পরিদর্শন করেন লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ। তিনি আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টার বিষয়ে তাদের অবহিত করেন।

এসময় আটক বাংলাদেশিরা দালালচক্রের প্রতারণা, দীর্ঘদিন বন্দিদশা এবং লিবিয়ায় অমানবিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা রাষ্ট্রদূতকে জানান। দূতাবাসের পক্ষ থেকে আটককেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

রাষ্ট্রদূত আটককেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও দ্রুত প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন উভয় পক্ষ।