জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল সুইজারল্যান্ড

SVP Switzerland, population cap vote

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দেশের জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ডের জনগণ। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ভোটারদের প্রায় ৫৫ শতাংশ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৪৫ শতাংশ পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

রোববার সুইজারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ প্রকাশিত প্রাথমিক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। গণভোটে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল দেশটির প্রধান ডানপন্থী দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি), যারা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

এসভিপির প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি হতে পারবে না। তবে সরকারি পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০-এর দশকের শুরুতেই দেশটির জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছে যেতে পারে।

দলটির দাবি ছিল, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের অবকাঠামো, আবাসন, সামাজিক সেবা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীবনযাত্রার মানের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবিধানিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

তবে ভোটারদের বড় একটি অংশ এই পরিকল্পনার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জরিপ প্রতিষ্ঠান জিএফএস বার্নের গবেষক উরস বিয়েরি বলেন, অনেকেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও প্রস্তাবিত সমাধানকে কার্যকর মনে করেননি।

তার মতে, ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল যে এই পদক্ষেপ সুইজারল্যান্ডের শ্রমবাজার, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গণভোটে প্রস্তাবটি পাস হলে সরকারকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, পরিবার পুনর্মিলন কর্মসূচি এবং আবাসিক অনুমতির ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হতো। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তিও বাতিল করার প্রয়োজন হতে পারত।

সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল সরকার ও পার্লামেন্ট শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, দেশটির অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সুইস ভোটাররা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, দক্ষ শ্রমশক্তির সরবরাহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

জনসংখ্যা সীমার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আপাতত সুইজারল্যান্ডের বর্তমান অভিবাসন ও শ্রমবাজার নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।