পর্তুগালের সংসদে সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম আইন সংস্কার বিল প্রত্যাখ্যাত হলেও শ্রমবাজার আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডেরাসাও এমপ্রেসারিয়াল দে পর্তুগাল (সিআইপি)।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী সরকারের উত্থাপিত শ্রম আইন সংস্কার প্যাকেজটি সংসদে ভোটাভুটিতে প্রত্যাখ্যাত হয়। বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেয় সোশ্যালিস্ট পার্টি (পিএস), শেগা, লেফট ব্লক (বিই), পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি), লিভ্রে, পিএএন ও জেপিপি।
ভোটের পর এক বিবৃতিতে সিআইপির সভাপতি আরমান্দো মন্টেইরো বলেন, শ্রমবাজারের নিয়ম উন্নয়ন করা পর্তুগালের দীর্ঘদিনের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কম মজুরির সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমরা আরও উন্নত একটি দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাব। শ্রম আইনের সংস্কার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।”
মন্টেইরো জোর দিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের অধিকার হ্রাস করতে চান না। বরং তাদের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছাড়া উচ্চ বেতন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ তরুণদের দেশে ধরে রাখা সম্ভব নয়।
সিআইপি সতর্ক করে জানিয়েছে, শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে ডিজিটালায়ন, জ্বালানি রূপান্তর, দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের মতো নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে, ভোটের আগে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিএসডি) সংসদীয় নেতা হুগো সোয়ারেস বিলটি পাস হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। যদিও শেগা পার্টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ভোটের আগে তারা ৩০ মিনিটের জন্য সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদন জানালেও শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধেই ভোট দেয়।
তবে বিল প্রত্যাখ্যাত হলেও প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো জানিয়েছেন, পর্তুগালকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও উৎপাদনশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য থেকে সরকার সরে আসবে না। শ্রম আইন সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যগুলো ভবিষ্যতেও সরকারের নীতির অংশ হয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
