বড় লক্ষ্যের দিকে ছুটতে থাকা ব্রাজিলের নকআউট পর্বের অভিযান শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। হিউস্টন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাদশে বড় পরিবর্তন আনবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যে সমন্বয় নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নেমেছিল, জাপানের বিপক্ষেও সেই ছকই ধরে রাখতে পারেন ইতালিয়ান কোচ।
তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, এই ম্যাচে নেইমার জুনিয়রকে আরও বেশি সময় মাঠে দেখা যেতে পারে। চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে খুব বেশি সময় খেলতে না পারলেও জাপানের বিপক্ষে তার খেলার সময় বাড়তে পারে।
নেইমারের শারীরিক অবস্থার উন্নতি নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “গত এক সপ্তাহে তার উন্নতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগের ম্যাচে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। তবে তিনি এখন আরও বেশি সময় মাঠে থাকার মতো যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছেন।”
জাপানের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ব্রাজিল কোচ বলেন, “আমার মনে হয় না খুব বেশি পরিবর্তন আসবে। শেষ অনুশীলনের সময়ই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। দিন শেষে আমাদের ম্যাচে পূর্ণ মনোযোগ রাখতে হবে। আমরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়ব। তারা খুব শৃঙ্খলিত দল এবং আমরা স্পষ্টভাবে জানি মাঠে আমাদের কী করতে হবে।”
গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে ভারসাম্য দেখা গেছে। আনচেলত্তি সেই সমন্বয় ধরে রাখতে চাইবেন বলেই মনে হচ্ছে। চোটে পড়ার আগে লেফট উইংয়ে রাফিনিয়া প্রত্যাশিত ছন্দে ছিলেন না। তার জায়গায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে রায়ান নজর কেড়েছেন। জাপানের বিপক্ষেও তাকে শুরু থেকে দেখা যেতে পারে।
আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহাকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাতে পারেন আনচেলত্তি। নেইমারকে শুরু থেকে নামানো হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে আগের চেয়ে বেশি সময় ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপান শৃঙ্খলিত ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং সংগঠিত রক্ষণভাগের জন্য পরিচিত। তাই ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি সহজ হবে না। নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ কম, আর সেই কারণেই আনচেলত্তি অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যকে প্রাধান্য দিতে পারেন।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ
অ্যালিসন বেকার; দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস, ডগলাস সান্তোস; ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, লুকাস পাকেতা; রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
