দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে রূপকথার যাত্রা অব্যাহত রাখল নরওয়ে। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে ভাগ্য সহায় হয়নি হালান্ডের। তৃতীয় মিনিটে তার হেড প্রতিহত হয়, পরে বিরতির ঠিক আগে নিশ্চিত একটি গোলও রক্ষা করেন আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডার। এছাড়া তার আরেকটি শক্তিশালী হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক।
তবে গোল না পেলেও প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৩৯তম মিনিটে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে আন্তোনিও নুসা বক্সের ভেতর জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের নিচু শটে জাল খুঁজে নেন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নরওয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি গড়েন নুসা।
এদিকে ওডেগার্ডও নতুন একটি রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগর বেলানোভ এবং জার্মানির মাইকেল বালাকের।
প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ঘিসলাইন কোনান, নিকোলাস পেপে ও এমানুয়েল আগবাদুরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বিরতিতে ১-০ গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আফ্রিকান দলটি। ৫৫ ও ৫৭ মিনিটে নিকোলাস পেপে এবং ফ্রাঙ্ক কেসির দুর্দান্ত দুটি শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরহান নাইলান্ড।
৬৭তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয় নরওয়ে। কর্নার থেকে পাওয়া বলে হেগেমের কাছ থেকে নেওয়া শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন আমাদ দিয়ালো।
এর সাত মিনিট পরই সমতায় ফেরে আইভরি কোস্ট। ডান দিক থেকে নিকোলাস পেপের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে গোল করেন আমাদ দিয়ালো।
তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন হালান্ড। ৮৬তম মিনিটে অস্কার ববের দুর্দান্ত আক্রমণের পর প্যাট্রিক বার্গের কাট-ব্যাক থেকে খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়েকে আবারও এগিয়ে দেন তিনি। এটি জাতীয় দলের হয়ে হালান্ডের ৫৩ ম্যাচে ৬০তম এবং চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চম গোল।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আইভরি কোস্ট সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেলেও নরওয়ের রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠেন নাইলান্ড। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে আমাদ দিয়ালোর শক্তিশালী ফ্রি-কিক অসাধারণ সেভে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি।
পরিসংখ্যানে আইভরি কোস্ট ১৪টি শট নিয়ে নরওয়ের ৯টি শটকে ছাড়িয়ে গেলেও কার্যকর ফিনিশিং এবং গোলরক্ষক নাইলান্ডের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভই পার্থক্য গড়ে দেয়।
এই জয়ে ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের যাত্রা দীর্ঘ করল নরওয়ে। আগামী ৬ জুলাই (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।
