যুক্তরাজ্যে কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা ১৫ বছর করার প্রস্তাবে তীব্র বিতর্ক

uk new asylum policy shabana mahmud

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেয়ার কর্মীদের মতো নিম্ন ও মধ্য দক্ষতার (Low and Medium Skilled) পেশায় কর্মরত বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের (Indefinite Leave to Remain-ILR) যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বর্তমান পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শ্রমিক অধিকারকর্মী, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এবং ক্ষমতাসীন দলেরই কয়েকজন রাজনীতিক। তাদের দাবি, বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে দেশের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কর্মীদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত অন্যায্য এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণযোগ্য নয়।

হোম অফিসের একজন মন্ত্রী মাইক ট্যাপ প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন যে, বিদেশি কেয়ার কর্মীদের এই কঠোর নিয়মের আওতার বাইরে রাখা উচিত। তার এই অবস্থানের পর সরকারের ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দেয়।

খবরে বলা হয়েছে, ট্যাপের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে ট্যাপকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের আহ্বান জানান বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল সরকারি নথি ও বৈঠকে তার প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক’ বলছেন অধিকারকর্মীরা

শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, যারা বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে সরকারের আহ্বানে স্বাস্থ্য ও সেবাখাতে কাজ করছেন, তাদের জন্য মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করা অত্যন্ত অন্যায্য।

ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. ডোরা-অলিভিয়া ভিকোল বলেন, এসব কর্মী যুক্তরাজ্যের প্রয়োজন মেটাতে বৈধভাবে এসেছেন। এখন তাদের জন্য শর্ত আরও কঠোর করা “নিষ্ঠুর ও বিবেকহীন” সিদ্ধান্ত হবে।

শোষণের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা

ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসনের সামাজিক সেবা বিভাগের প্রধান গ্যাভিন এডওয়ার্ডস সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে স্পন্সরশিপভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থার কারণে অনেক কেয়ার কর্মী নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকেন। ফলে কর্মক্ষেত্রে শোষণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি অনেক বেশি।

তার মতে, স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা আরও দীর্ঘ করা হলে এই নির্ভরশীলতা বাড়বে এবং বিদেশি কর্মীদের শোষণের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

অনেক কেয়ার কর্মী, যারা ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের শর্ত পূরণের কাছাকাছি রয়েছেন, নতুন প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জিম্বাবুয়ে থেকে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে আসা এক নারী কেয়ার কর্মী জানান, প্রথম কর্মস্থলে তাকে অমানবিক পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কাজ করতে হয়েছে এবং চাকরি হারানোর ভয়েই তিনি দীর্ঘ সময় মুখ খুলতে পারেননি।

বর্তমানে তিনি স্থায়ী বসবাসের অনুমতির মাত্র ১০ মাস দূরে রয়েছেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরে উন্নীত করা হবে। তবে নিম্ন ও মধ্য দক্ষতার পেশাগুলোর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

এ প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।