ইকুয়েডরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকো

mexico-reach-world-cup-round-of-16

বিশ্বকাপের মঞ্চে দারুণ ছন্দ ধরে রেখে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মেক্সিকো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সহ-আয়োজক দেশটি। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে পাওয়া এই জয়ে ঘরের সমর্থকদের সামনে বড় উৎসবের উপলক্ষ তৈরি করেছে মেক্সিকানরা।

নকআউট পর্বের চাপের ম্যাচেও শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মেক্সিকো। বল দখল, আক্রমণের গতি এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলায় তারা ইকুয়েডরের ওপর চাপ তৈরি করে। ইকুয়েডর ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ছিল সতর্ক ও সংগঠিত।

মেক্সিকোর জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন রাউল হিমেনেজ। এর আগে মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে হিমেনেজ ও এরিক লিরাকে শুরুর একাদশে ফেরান, যা দলের ভারসাম্য বাড়াতে সহায়ক হয়।

এই জয়ের আগে গ্রুপ পর্বেও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিল মেক্সিকো। গ্রুপ ‘এ’-তে তারা তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠে। গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর রক্ষণও ছিল শক্তিশালী, যা নকআউট ম্যাচেও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

ইকুয়েডর সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় নিয়ে তারা নকআউটে এসেছিল। তাই মেক্সিকোর জন্য ম্যাচটি ছিল বড় পরীক্ষা। তবে ঘরের মাঠের সমর্থন, দ্রুত আক্রমণ এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে দলটি।

মেক্সিকোর জন্য এই জয় শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করার বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন আশার বার্তা। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে বড় নকআউট সাফল্যের প্রত্যাশা মেক্সিকান ফুটবলে সবসময়ই আলোচনায় থাকে। এবার ঘরের মাটিতে সেই স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দেখিয়েছে, দলটি শুধু আবেগের ওপর নির্ভর করছে না; মাঠেও তারা পরিকল্পিত, আত্মবিশ্বাসী এবং ফল আদায়ের মতো ফুটবল খেলছে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, মেক্সিকো এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত দল। ঘরের মাঠে এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেও তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামবে।