সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট সংশোধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় নিয়োগকর্তাদের জন্য এ সুযোগ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এতে যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন হয়নি, তাদের অবস্থান নিয়মিত করার বাড়তি সময় মিলবে।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট ১২ মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ, তাদের বিষয়ে নিয়োগকর্তারা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সময় পাবে কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা প্রয়োজনীয় নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।
এর আগে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
নতুন সময়সীমা প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তা—দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব কর্মীর কাগজপত্র দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল, তারা এখন বৈধতা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদেরও প্রতিষ্ঠানের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স ঠিক করার বাড়তি সময় মিলবে।
সৌদি শ্রমবাজারে কিওয়া প্ল্যাটফর্ম এখন কর্মচুক্তি, ওয়ার্ক পারমিট, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য ও কর্মী ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কিওয়া প্ল্যাটফর্মে কর্মীদের তথ্য যাচাই, মেয়াদোত্তীর্ণ পারমিট শনাক্ত এবং নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে কারও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত নবায়ন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়সীমা বাড়ানো হলেও এটি স্থায়ী ছাড় নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না করলে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্য ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা বাড়ানো, অনিয়ম কমানো এবং প্রবাসী কর্মীদের বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এই সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিত তথ্য যাচাই এবং সময়মতো নবায়ন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
