হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

erling-haaland-norway-beat-brazil

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরও একটি স্মরণীয় রাত উপহার দিল নরওয়ে। তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।

৫ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৭৯তম মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। এরপর ৮৯তম মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত করে দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ব্রাজিলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চাপে রাখার চেষ্টা করে নরওয়ে। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে পাঠিয়েছিলেন। তবে আক্রমণ তৈরির সময় জুলিয়ান রায়েরসন অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।

এর কিছুক্ষণ পর ব্রাজিলও এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পায়। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়েরের চ্যালেঞ্জে মাতেউস কুনিয়া পড়ে গেলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শে ব্রাজিলকে পেনাল্টি দেওয়া হয়।

কিন্তু ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ড। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের শট প্রতিহত করে নরওয়েকে ম্যাচে রাখেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় নরওয়ের খেলা

প্রথমার্ধে হালান্ডকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। বিরতির পর নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাক্কেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপকে মাঠে নামালে দলের আক্রমণে গতি বাড়ে।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি এন্দ্রিক ও নেইমারকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণ শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন। মাঠে নেমেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোলের সামনে পৌঁছালেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ব্রাজিল বলের দখল বাড়ালেও নরওয়ে পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে শেলডেরুপের ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন হালান্ড। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালিয়াসকে পেছনে ফেলে নেওয়া তার হেড ঠেকানোর কোনো সুযোগ পাননি গোলরক্ষক আলিসন।

আবারও হালান্ড-শেলডেরুপ জুটি

প্রথম গোলের দশ মিনিট পর আবারও ব্রাজিলের রক্ষণভাগে আঘাত হানে নরওয়ে। এবারও আক্রমণের কারিগর ছিলেন শেলডেরুপ। তার পাস থেকে পেনাল্টি এলাকার প্রান্তে বল পেয়ে নিচু শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন হালান্ড।

ম্যাচে চারটি শট নিয়ে দুটি গোল করেন নরওয়ের অধিনায়ক। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের চলতি আসরে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এসেছেন তিনি।

যোগ করা সময়ের শেষ দিকে নরওয়ের লিও অস্টিগার্ডের চ্যালেঞ্জে কাসেমিরো আঘাত পেলে ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করেন নেইমার।

তবে ম্যাচে ফেরার জন্য তখন আর পর্যাপ্ত সময় ছিল না। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা হতাশায় ভেঙে পড়েন এবং নরওয়ের খেলোয়াড়রা ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপন শুরু করেন।

প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। একই সঙ্গে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীন রেকর্ডও অব্যাহত রইল।

অন্যদিকে, শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও চার বছরের জন্য বাড়ল সেলেসাওদের।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের শেষ ষোলোর ম্যাচের জয়ী দলের। হালান্ডের দুর্দান্ত গোল করার ক্ষমতা এবং নরওয়ের সংগঠিত দলীয় পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিযোগিতার বাকি অংশেও দলটিকে এখন বড় হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।