পর্তুগালে বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান (ISS)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৬২ হাজার ২৫২ জন বিদেশি কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান (কন্ট্রিবিউশন) দেওয়া বন্ধ করেছেন এবং পরে আর সক্রিয় নিবন্ধনে ফিরে আসেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ হতে পারে—অনেকেই পর্তুগাল ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছেন অথবা দেশটিতে থেকে গেলেও বৈধ কর্মসংস্থানের বাইরে চলে গেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিদেশি কর্মীদের দেশত্যাগ বা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৬৭ জন বিদেশি কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তালিকা থেকে বাদ পড়লেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দৈনিক প্রায় ৪৫৫ জনে পৌঁছেছে।
জাতীয়তা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রস্থান করেছেন ব্রাজিলের নাগরিকরা। শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ৬০ হাজার ব্রাজিলীয় কর্মী সামাজিক নিরাপত্তার রেকর্ড থেকে হারিয়ে গেছেন। গত দুই বছরে এই সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে আসা কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা রেকর্ড থেকে বাদ পড়ার সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা প্রধান অভিবাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রবণতা পর্তুগালের শ্রমবাজার, অভিবাসন নীতি এবং বৈধ কর্মসংস্থানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
