মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড, আজটেকায় বেলিংহাম–পিকফোর্ডের নায়কোচিত রাত

england-beat-mexico-reach-quarter-final

স্পোর্টস ডেস্ক: রুদ্ধশ্বাস লড়াই, লাল কার্ড, পেনাল্টি আর শেষ মুহূর্তের চাপ—সবকিছু সামলে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। আজটেকা স্টেডিয়ামের আবেগঘন পরিবেশে থমাস টুখেলের দল দেখাল পরিণত ফুটবল, মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা।

তীব্র ঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরু হতে এক ঘণ্টা দেরি হয়। তবে মাঠে নামার পর শুরু থেকেই চাপ সামলে ঠান্ডা মাথায় খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন জুড বেলিংহাম। তার জোড়া গোলে আজটেকার গর্জনের মাঝেও এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা।

বিরতির আগে জুলিয়ান কুইনোনেস শক্তিশালী ফিনিশে মেক্সিকোর হয়ে এক গোল শোধ করেন। এর আগে ও পরে রাউল হিমেনেজকে দুইবার দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। জেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের জন্য লাল কার্ড দেখেন জারেল কোয়ানসাহ। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ভেঙে পড়েনি ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনকে গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হ্যারি কেইন।

তবে নাটক তখনও বাকি ছিল। ইংল্যান্ড বক্সে ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করেন কেইন। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে মেক্সিকোকে আবার ম্যাচে ফেরান রাউল হিমেনেজ। শেষ দিকে আজটেকা স্টেডিয়ামের তীব্র চাপ ও দর্শকদের গর্জনের মধ্যে ইংল্যান্ডকে রক্ষণের দেয়াল গড়তে হয়।

শেষ ১১ মিনিটের যোগ করা সময়ে ড্যান বার্ন ও ডিজেড স্পেন্সকে নামিয়ে পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশলে যান টুখেল। মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের অন্যতম নায়ক ছিলেন জর্ডান পিকফোর্ড। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি পিটার শিলটনের ইংল্যান্ড পুরুষ দলের বিশ্বকাপ উপস্থিতির রেকর্ড স্পর্শ করেন। চাপের মুহূর্তে তার একাধিক সেভ ইংল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

জয়ের পর কোচ থমাস টুখেল দলের পারফরম্যান্সকে নায়কোচিত বলে প্রশংসা করেন। তার মতে, এমন পরিবেশে ১০ জন নিয়ে জয় পাওয়া ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে ওঠা নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।