শ্রমিকদের জন্য স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় পর্তুগালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লঙ্ঘন (Infringement) প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
জুলাই মাসের ইনফ্রিঞ্জমেন্ট প্যাকেজের অংশ হিসেবে নেওয়া এই পদক্ষেপে পর্তুগালের পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, গ্রিস, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, এসব দেশ EU Directive on Transparent and Predictable Working Conditions-এর বিধান জাতীয় আইনে সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব কর্মীকে চাকরির গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি—যেমন কর্মঘণ্টা, বেতন, চাকরির নিরাপত্তা এবং অন্যান্য চুক্তিগত বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ও সময়মতো তথ্য নিশ্চিত করা।
কমিশন আরও জানিয়েছে, নতুন বিধান কর্মীদের অনিশ্চিত কর্মসূচি, শেষ মুহূর্তে শিফট পরিবর্তনের মতো অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
দুই মাসের সময় পেল পর্তুগাল
ইউরোপীয় কমিশন পর্তুগালসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে দুই মাসের মধ্যে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এবং চিহ্নিত ঘাটতি দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে কমিশন পরবর্তী ধাপে Reasoned Opinion জারি করতে পারে। এরপরও সমস্যা সমাধান না হলে বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালতে (Court of Justice of the European Union) পাঠানো হতে পারে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশন সম্প্রতি Pay Transparency Directive বাস্তবায়ন নিয়েও পর্তুগালসহ সদস্য দেশগুলোর অগ্রগতি মূল্যায়ন করছে। এই নির্দেশনা জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা গত ৭ জুন শেষ হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চাকরির বিজ্ঞাপন বা সাক্ষাৎকারের আগেই নিয়োগকর্তাদের সম্ভাব্য বেতন বা বেতনের সীমা প্রকাশ করতে হবে। কর্মীরাও নিজেদের বেতন এবং একই ধরনের কাজে নারী-পুরুষের গড় পারিশ্রমিকের লিখিত তথ্য জানার অধিকার পাবেন।
এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষ কর্মীদের মধ্যে ৫ শতাংশের বেশি বেতন বৈষম্য থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশনা না মানলে ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বেতন সংক্রান্ত স্বচ্ছতার অভাব এখনো ইউরোপে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য কমানোর অন্যতম বড় বাধা। ইউরোস্ট্যাটের ২০২৪ সালের তথ্য বলছে, সমমানের কাজ করেও ইউরোপীয় ইউনিয়নে নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১ শতাংশ কম আয় করেন।
