শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে ৪৭ লাখ টাকা, মিলেছে সোনা-রূপা ও বিদেশি মুদ্রা

shahjalal-mazar-donation-box-money-count-july-2026

সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ডেকছি খুলে এবার পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এছাড়া মিলেছে সোনা, রূপা, বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল দানের তথ্য।

শনিবার (১১ জুলাই) দানবাক্স ও ডেকছির টাকা গণনা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিশ্চিতে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে শনিবার দুপুরে তিনটি ডেকছি ও আটটি দানবাক্স খুলে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। বিকেলে গণনা শেষে জানানো হয়, গত ১৮ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা জমা পড়েছে।

নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা।

এছাড়া দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০ মার্কিন ডলার, ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১ দশমিক ৪৫ ওমানি রিয়াল, ৫৪ দশমিক ২০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুর ডলার।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ভক্তরা একটি গরু ও ৬৫টি ছাগলও দান করেছেন।

এবারের গণনায় আরও পাওয়া গেছে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান এবং হযরত শাহজালাল (র.)-এর উদ্দেশ্যে লেখা একাধিক চিঠি। পাশাপাশি কিছু তাবিজও উদ্ধার করা হয়েছে।

টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য আব্দুল কাউয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ জেলা প্রশাসন ও মাজার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের সব দানবাক্স ও ডেকছি সিলগালা করা হয়। পরে ২২ জুন প্রথমবার প্রকাশ্যে টাকা গণনা করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭৯ টাকা পাওয়া যায়। এবার ১৮ দিনের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে ৪৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।