স্পেনের হয়ে আবারও শেষ মুহূর্তের নায়ক হয়ে উঠলেন মিকেল মেরিনো। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৮৮তম মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে মেরিনোর গোলে জয় পায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার এর আগে শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে ৯১তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেছিলেন। এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একইভাবে দলের ত্রাতা হয়ে উঠলেন তিনি।
মাত্র ১১৭ সেকেন্ডেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন মেরিনো
ম্যাচের ১-১ সমতায় যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। দানি ওলমোর পরিবর্তে মাঠে নামার মাত্র ১১৭ সেকেন্ড পর মেরিনো গোল করেন। পাউ কুবর্সির প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্স ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে গেলে কাছ থেকে ফিরতি শট জালে পাঠান মেরিনো। এই গোলেই স্পেন নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শেষ চার।
ফ্যাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্পেন। ৩০তম মিনিটে দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোর্সো ও লামিন ইয়ামালের সমন্বিত আক্রমণের পর দানি ওলমোর শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া। তবে ফিরতি বল পেয়ে ফ্যাবিয়ান রুইজ নিচু শটে গোল করেন। এই গোলে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
ডি কেতেলারারের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম
স্পেনের দারুণ শুরু সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেতেলারার হেডে সমতা ফেরায় রুডি গার্সিয়ার দল। কাস্তাগনের ক্রস থেকে কুবর্সির সামনে এসে বল জালে পাঠান ডি কেতেলারার। এই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের অসাধারণ রক্ষণ রেকর্ডেরও অবসান ঘটে। এর আগে টুর্নামেন্টে টানা ৬৪৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেনি স্পেন।
কুর্তোয়ার চোট বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ চালিয়ে গেলেও গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছিল কম। স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের একটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। তবে ৭১তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। পেশির সমস্যায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক। তার জায়গায় মাঠে নামেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা লামেন্স শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয়সূচক গোলের ঘটনায় ভুল করে বসেন।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন
বেলজিয়ামকে হারানোর পর এখন স্পেনের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ।
সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ডালাসে আগামী ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাতে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় সেমিফাইনাল উপস্থিতি। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতা স্পেন এবার দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
