দেশের অধিকাংশ এলাকায় আজও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা বহাল রয়েছে।
ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ সতর্কবার্তা অনুযায়ী, কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১০ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর কারণে এই বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, তিন দিনে এসব জেলায় মোট ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২২৩ মিলিমিটার, টেকনাফে ১৬৯ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১০৬ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং জলাবদ্ধ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি হলে মাটিতে ফাটল, পাহাড় থেকে মাটি বা পাথর পড়া এবং অস্বাভাবিক পানিপ্রবাহ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
