পর্তুগালের পার্লামেন্টের সামনে দেশটির কট্টর ডানপন্থী CHEGA দলের স্থাপন করা একটি রাজনৈতিক বিলবোর্ড জব্দ করেছে লিসবন মিউনিসিপ্যাল পুলিশ। অনুমতি ছাড়াই ফুটপাতে গর্ত করে বিলবোর্ডটির কাঠামো বসানোর অভিযোগে এটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিলবোর্ড স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং দলটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অপরাধসংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, CHEGA কর্মীরা বিলবোর্ডের সহায়ক কাঠামো স্থায়ীভাবে বসাতে জনসাধারণের ব্যবহৃত ফুটপাতে গর্ত করেছিলেন। তবে এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন তাঁদের ছিল না। এর ফলে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পুলিশের।
বিলবোর্ডটিতে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর একটি ছবি ছিল। ছবিতে তাঁর চোখ ও মুখ ঢেকে দিয়ে লেখা হয়েছিল, “পর্তুগাল জ্বলছে। পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা। আলমাদায় পানি নেই। সরকার কোথায়?”
সাম্প্রতিক দাবানল, জাতীয় মাধ্যমিক পরীক্ষাব্যবস্থার সমস্যা এবং আলমাদা এলাকার পানি সরবরাহ সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করতেই বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছিল।
মিউনিসিপ্যাল পুলিশ বিলবোর্ডটি জব্দ করার পর CHEGA সদস্যরা পর্তুগালের পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ বা PSP-কে ঘটনাস্থলে ডাকেন। পরে তাঁরা লিসবন মিউনিসিপ্যাল পুলিশ এবং লিসবন সিটি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন।
CHEGA’র উপ-মহাসচিব কার্লোস মাগনো মাগালহায়েস লুসাকে বলেন, রাজনৈতিক বার্তা বা বিলবোর্ড প্রদর্শনের জন্য দলটির অনুমতির প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রচারণার অধিকার পর্তুগালের সংবিধানে সুরক্ষিত।
তিনি পুলিশি পদক্ষেপকে “ক্ষমতার অপব্যবহার” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাসের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি সামাল দিতে PSP-এর আটজন এবং মিউনিসিপ্যাল পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে CHEGA কর্মীরা সেখানে ফিরে আসেন। পরে তাঁরা একই সরকারবিরোধী বার্তাসংবলিত আরেকটি বিলবোর্ড স্থাপন করেন।
দলটির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। তবে দ্বিতীয় বিলবোর্ডটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কোনো নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকার রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের নির্বাচনের পর মন্টেনেগ্রোর মধ্য-ডানপন্থী জোট সরকার গঠন করলেও পার্লামেন্টে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। অন্যদিকে, CHEGA দেশটির প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ ভাষণ ও পার্লামেন্টের বিতর্কের আগে বিলবোর্ড নিয়ে এই বিরোধ দেশটির সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
