পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা এজেন্সি ফর ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম—AIMA—অভিবাসীদের নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ায় কাজ করা আইনজীবী ও সলিসিটরদের অন্তত ৮৮ হাজার ইউরো এখনো পরিশোধ করেনি।
বার অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত যাচাই করা আবেদনগুলোর জন্য প্রায় ৬৯ হাজার ইউরো বকেয়া রয়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এ সম্পন্ন কাজের জন্য আরও প্রায় ১৯ হাজার ইউরো পাওনা হয়েছে। মে মাসের বকেয়ার পূর্ণ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য আইনজীবী ও সলিসিটররা বারবার যোগাযোগ করলেও সব অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এপ্রিলেও পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল, AIMA-এর কাছে আইনজীবীদের দুই লাখ ইউরোর বেশি বকেয়া থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে সময় AIMA-এর সভাপতি দাবি করেছিলেন, কিছু পেমেন্ট বিলম্বের কারণ ছিল প্রয়োজনীয় কর ও সামাজিক নিরাপত্তা সনদসহ নথির ঘাটতি এবং যোগাযোগের ভুল তথ্য।
প্রতি আবেদন যাচাইয়ের জন্য সাড়ে ৭ ইউরো
AIMA অভিবাসীদের আবাসন অনুমতির জমে থাকা আবেদন যাচাইয়ের জন্য আইনজীবী, প্রশিক্ষণরত আইনজীবী ও সলিসিটরদের নিয়োগ করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদন পর্যালোচনার জন্য একজন পেশাজীবীকে ৭ দশমিক ৫০ ইউরো দেওয়ার কথা ছিল।
তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা, প্রশাসনিক শুনানির প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের প্রস্তাব প্রস্তুত করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। একজন পেশাজীবীকে মাসে সর্বোচ্চ ২০০টি আবেদন যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এই হিসাবে একজন আইনজীবী বা সলিসিটর মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউরো পাওয়ার কথা। তবে চুক্তির প্রাথমিক শর্তে মাসিক পারিশ্রমিকের সীমা প্রায় ১৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ইউরোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিটি আবেদনের জন্য সাড়ে ৭ ইউরো পারিশ্রমিককে আইনজীবীদের কাজের তুলনায় অত্যন্ত কম এবং পেশার অবমূল্যায়ন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে আগের নেতৃত্বের সময়েই এই হার মেনে AIMA-এর সঙ্গে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
জমে ছিল চার লাখের বেশি আবেদন
পর্তুগালের বিলুপ্ত ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ বা manifestação de interesse ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা হওয়া চার লাখের বেশি আবাসন অনুমতির আবেদন নিষ্পত্তিতে সহায়তা করার জন্য এই পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই ব্যবস্থা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট শর্তে পর্তুগালে অবস্থান করার পর কাজ ও সামাজিক নিরাপত্তার রেকর্ডের ভিত্তিতে আবাসন অনুমতির আবেদন করার সুযোগ দিত। জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে AIMA বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষ মিশনের সহায়তা নেয়।
আইনজীবীদের কাজকে সরকারের পক্ষ থেকে সফল বলে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাঁদের পারিশ্রমিক সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের আগস্টেও প্রায় ৩০০ আইনজীবী অর্থ পরিশোধে বিলম্বের অভিযোগ করেছিলেন। পরে ওই দফার সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল বলে বার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে।
নিজস্ব আয়ের বড় অংশ বিভিন্ন ফি থেকে
AIMA-এর ২০২৫ সালের কার্যক্রম পরিকল্পনায় প্রায় ৭১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরো নিজস্ব আয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এই পুরো অর্থ সরাসরি অভিবাসীদের কাছ থেকে এসেছে—এমনটি সরকারি নথিতে বলা হয়নি। সংস্থাটির নিজস্ব আয়ের মধ্যে আবাসন অনুমতি, আবেদন বিশ্লেষণ, কার্ড ইস্যু ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ফি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
AIMA-এর প্রকাশিত ফি তালিকায় বিভিন্ন ধরনের আবাসন অনুমতি ও প্রশাসনিক সেবার জন্য কয়েক দশক থেকে কয়েক হাজার ইউরো পর্যন্ত চার্জ নির্ধারিত রয়েছে। কিছু উচ্চমূল্যের বিনিয়োগভিত্তিক আবাসন অনুমতির ক্ষেত্রে ফি কয়েক হাজার ইউরোর বেশি। নির্দিষ্ট কিছু ফি থেকে পাওয়া অর্থ AIMA এবং পর্তুগালের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তহবিলের মধ্যে ভাগ করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন প্রক্রিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য নিজস্ব আয় থাকা সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে কম অঙ্কের পেশাগত পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
মে মাসে সম্পন্ন কাজের বিষয়ে AIMA ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কাছে তথ্য চেয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছে। তবে মে মাসসহ মোট বকেয়ার পরিমাণ কত এবং সব পাওনা কবে পরিশোধ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
