দুই বছরে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রী প্রায় দ্বিগুণ, চাপে বিমানবন্দরের সেবা

bangladesh Airport

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রী চলাচল দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৫০ হাজার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখে। অর্থাৎ এই সময়ে যাত্রী চলাচল বেড়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। তবে বাড়তি যাত্রীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও সেবা সম্প্রসারণ না হওয়ায় চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন ৭৯ লাখ যাত্রী। দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নতুন রুট ও ফ্লাইট সম্প্রসারণ এই চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান, ওমরাহসহ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভ্রমণ, চিকিৎসা ও পর্যটনের চাহিদাকে যাত্রী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা। মানুষের ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধি এবং বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিয়মিত যাতায়াতও এ প্রবণতায় ভূমিকা রাখছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামের ভাষ্য, চলতি বছর যাত্রী চলাচল ভালো রয়েছে। করোনাকালীন বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাড়িয়েছে এবং নতুন গন্তব্য যুক্ত করেছে। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগও বেড়েছে।

মহামারির আগে ২০১৯ সালে দেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল ছিল প্রায় ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার। পরের বছর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণবিধিনিষেধে তা নেমে আসে ২৫ লাখ ৪০ হাজারে। পরে বিধিনিষেধ শিথিল এবং ফ্লাইট চালু হলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় এ খাত।

বাড়তি যাত্রী চলাচলের বড় অংশের চাপ পড়ছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরেই অধিকাংশ আন্তর্জাতিক যাত্রীর যাত্রা শুরু বা শেষ হয়। ফলে যাত্রী বৃদ্ধির সঙ্গে সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনও তীব্র হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের ধীরগতি বাড়তি বাজার ধরার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো। চাহিদা বাড়লেও দেশীয় সংস্থাগুলোর উড়োজাহাজ ও ফ্লাইটের সক্ষমতা একই গতিতে না বাড়লে বাজার সম্প্রসারণের সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা করা যাত্রীদের ৫৩ শতাংশের গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রাচ্য। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে গেছেন ৩২ শতাংশ এবং ইউরোপে ১০ শতাংশ যাত্রী।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন একেএম আমিনুল ইসলামও বিদেশে কর্মসংস্থান এবং ওমরাহ পালনের চাহিদাকে যাত্রী বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, মহামারির পর বিদেশ ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলমের পর্যবেক্ষণ, যাত্রী বৃদ্ধির এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। পুরো অঞ্চলেই আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাতায়াত বাড়ছে; বাংলাদেশেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।