জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কেমন একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ

bangladesh-vs-zimbabwe-odi score-2026

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন জাতির ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচটি দিয়ে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে লিটনেরও আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিল গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে। সেই তিন ম্যাচের সিরিজে ২–১ ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের।

তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে। ব্যাটিং অর্ডারের বেশির ভাগ জায়গা প্রায় নিশ্চিত হলেও বোলিং কম্বিনেশন এবং স্পিন বিভাগে রয়েছে কয়েকটি বিকল্প।

ওপেনিংয়ে তানজিদ–সৌম্য?

ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের জায়গা অনেকটাই নিশ্চিত। তাঁর সঙ্গী হিসেবে এগিয়ে আছেন সৌম্য সরকার। তবে বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে রয়েছেন সাইফ হাসানও।

দ্য ডেইলি স্টারের ম্যাচপূর্ব প্রতিবেদনে তানজিদ ও সৌম্যকে সম্ভাব্য ওপেনিং জুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পর নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক লিটন দাসকে নিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার সাজানোর সম্ভাবনাই বেশি।

অসুস্থতা কাটিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে দলে ফেরা শান্তও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশে থাকার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। মিডল অর্ডারে হৃদয় ও লিটনের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব।

ব্যাটিংয়ের বড় চিন্তা ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সাম্প্রতিক ওয়ানডে ব্যাটিং। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১১৬ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও ২৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২৩৪ রানে থেমে যায় দল।

ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে লিটনও ব্যাটারদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করা এবং ছয়–সাত নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং গভীরতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নতুন অধিনায়ক।

এই কারণে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং মেহেদী হাসান মিরাজের মতো অলরাউন্ডারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুজনই একাদশে থাকলে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও বাড়তি বিকল্প পাবেন লিটন।

চমক হতে পারেন আলিস আল ইসলাম

বাংলাদেশের একাদশে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া এই অফ স্পিনারের আন্তর্জাতিক ৫০ ওভারের ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যেতে পারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

আবুধাবির উইকেট এবং দলের কম্বিনেশন বিবেচনায় আলিসকে একাদশে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর সঙ্গে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকেও দেখা যেতে পারে।

তবে আলিস ও রিশাদ দুজনকেই খেলানো হলে একাদশের ভারসাম্য নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে মিরাজকে রেখে তিন পেসার খেলানো হবে, নাকি বাড়তি একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নেওয়া হবে—টসের আগে সেটিই বড় প্রশ্ন।

পেস আক্রমণে তাসকিন–মুস্তাফিজ

পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। তৃতীয় পেসারের জন্য শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সম্ভাব্য একাদশের প্রতিবেদনে তাসকিন, মুস্তাফিজ ও শরিফুলকে পেস ত্রয়ী হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে হাসান মাহমুদও স্কোয়াডে ফিরেছেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে খেলানো হতে পারে।

চোটের কারণে এই সিরিজের দলে নেই গতিময় পেসার নাহিদ রানা। অন্যদিকে মুস্তাফিজ ও হাসান মাহমুদ আবার ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরেছেন।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

সর্বশেষ দল-সংবাদ ও আবুধাবির কন্ডিশন বিবেচনায় সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে—

তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ/আলিস আল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম/হাসান মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

কয়েকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম অবশ্য মিরাজের জায়গায় আলিসকে রেখে ছয় ব্যাটার, দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার ও তিন পেসারের সমন্বয়ের সম্ভাবনা জানিয়েছে। ফলে মিরাজ নাকি আলিস—এই জায়গাটিই একাদশ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয় হতে পারে। চূড়ান্ত একাদশ নিশ্চিত হবে টসের সময়।

১৬ সদস্যের বাংলাদেশ দল

লিটন দাস (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম।