গাছ না কেটে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

coxsbazar marine drive road

গাছ না কেটে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

গত ২১ এপ্রিল সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী রবিউল ইসলাম মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ বর্তমানে চলমান। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, সড়ক প্রশস্ত করতে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রায় তিন হাজার গাছ কাটার সম্ভাবনার খবর জানার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে একটি গাছও না কেটে রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন তিনি।

এই নির্দেশনার পর সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর গাছ না কেটে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়।

মন্ত্রী বলেন, “শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব করতে সড়কের দুই পাশে নতুন সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এই প্রকল্পে রাস্তা প্রশস্তকরণ, রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকৃতি রক্ষার এমন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।