“গোল করে পর্তুগাল ঘুমিয়ে পড়েছিল”—ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুর এই মন্তব্য যেন ম্যাচের সারাংশই বলে দেয়। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর গ্রুপ কে-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোপিয়ান পরাশক্তিদের।
হিউস্টনে ম্যাচের ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে জোয়াও নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। বাঁ দিক থেকে পেদ্রো নেতোর ক্রসে নেভেসের গোলের পর মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। কিন্তু দ্রুত গোলের পর পর্তুগালের আক্রমণ ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। মাঝমাঠে বল থাকলেও গোলের সামনে ধার কমে যায়।
সেই সুযোগ কাজে লাগায় ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ইয়োয়ানে উইসা সমতাসূচক গোল করেন। এই গোল শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপে এটি ছিল আফ্রিকার দলটির প্রথম গোল।
ম্যাচটি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য হতে পারত স্মরণীয়। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লিওনেল মেসি ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোনালদোও সেই রেকর্ডে ভাগ বসান। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
প্রথমার্ধে রোনালদোর বল স্পর্শ ছিল খুবই কম। ডিআর কঙ্গোর রক্ষণ তাকে বেশিরভাগ সময় বক্সের বাইরে আটকে রাখে। বিরতির পরও তিনি নিজের স্বাভাবিক প্রভাব দেখাতে পারেননি। কয়েকটি মুহূর্তে সতীর্থদের নির্দেশনা দিলেও আক্রমণভাগের নেতা হিসেবে গোলের হুমকি তৈরি করতে ব্যর্থ হন।
শুরুটা ভালো, তারপর ছন্দ হারায় পর্তুগাল
পর্তুগালের দলে ছিল ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেসদের মতো তারকা ফুটবলার। কিন্তু এত শক্তিশালী মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ নিয়েও প্রথমার্ধে তারা খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। গোলের পর তাদের খেলায় গতি কমে যায়।
ডিআর কঙ্গো ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। নিউক্যাসল ফরোয়ার্ড ইয়োয়ানে উইসা ও ওয়েস্ট হাম ডিফেন্ডার অ্যারন ওয়ান-বিসাকার মতো খেলোয়াড়দের নেতৃত্বে আফ্রিকার দলটি ভয় না পেয়ে পর্তুগালের চোখে চোখ রেখে লড়েছে।
ডিআর কঙ্গোর জন্য এই ড্র ছিল বড় সাফল্য। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দেওয়া তাদের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। শুধু প্রথম গোল নয়, এই ম্যাচে তারা বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টও পেয়েছে।
র্যাঙ্কিং, অভিজ্ঞতা ও তারকা শক্তিতে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও মাঠে ডিআর কঙ্গোর লড়াই ছিল সাহসী। তারা রক্ষণে জমাট থেকেছে, সুযোগ পেলে আক্রমণে উঠেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে।
বিরতির পর পর্তুগাল আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে। বল দখলে তারা এগিয়ে থাকলেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ে ছিল দুর্বলতা। ডিআর কঙ্গো দ্বিতীয়ার্ধে বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে যায় এবং পর্তুগালকে বক্সের ভেতরে খুব বেশি জায়গা দেয়নি।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতটা নিষ্প্রভ থাকার পরও রোনালদোকে কেন আগে তুলে নেওয়া হলো না। পর্তুগালের বেঞ্চে বিকল্প আক্রমণভাগ থাকলেও তারা ম্যাচের শেষ দিকে ফল বদলাতে পারেনি।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ কে-এর হিসাব শুরুতেই জটিল হয়ে গেল। ফেভারিট পর্তুগাল পূর্ণ তিন পয়েন্ট হারিয়ে চাপের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো আত্মবিশ্বাসী শুরু পেয়েছে।
পর্তুগালের পরের ম্যাচ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। ডিআর কঙ্গো পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে। নকআউট পর্বে যেতে হলে দুই দলের জন্যই পরের ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
