আটক নয়, আমাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল: মুক্তির পর ধ্রুব রাঠি

dhruv-rathee

পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠি। তাঁর দাবি, সাদাপোশাকে একদল ব্যক্তি গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়নি এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে রাঠি বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।’ দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের আগে শনিবার তাঁকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

ভিডিও বার্তায় রাঠি দাবি করেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ির বাইরে কয়েকজনকে দেখে তাঁর মা দরজা খোলেন। এরপর সাদাপোশাকে প্রায় ২০ জন ভেতরে প্রবেশ করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে শরীরে আঘাত পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাঠির ভাষ্য, তাঁকে স্যান্ডেল পরার সুযোগও দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাননি কিংবা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, তা জানাননি। তাঁর মাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এই ইউটিউবার।

পরে তাঁকে একাধিক থানায় নেওয়া হয় বলে দাবি করেন রাঠি। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা মুঠোফোন ব্যবহার ও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের দেওয়া সময় অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে আটক করা হয় এবং রোববার ভোর ৩টায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফলে হেফাজতে থাকার সময় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

মুক্তির আগে পুলিশকে মুচলেকা দেওয়ার খবরও অস্বীকার করেছেন রাঠি। তিনি দাবি করেন, গুরুগ্রাম পুলিশের কাছে এমন কোনো অঙ্গীকার দেননি। তাঁর জোর করে তুলে নেওয়া, আঘাত পাওয়া এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের পৃথক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে পুলিশের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাঠি আবার যন্তরমন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে পুনরায় আটক করা হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। জমায়েত ঠেকাতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়। রোববারও সীমিত পরিসরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।