‘বাড়ি চাই, লাঠিপেটা নয়’: পুলিশি অভিযানের পরও বিক্ষোভ

portugal housing protests lisbon porto

পুলিশি অভিযানে তাঁবু সরিয়ে দেওয়ার পরও থামেনি পর্তুগালের আবাসন আন্দোলন। সাশ্রয়ী বাসস্থানের দাবিতে রোববার (২৫ অক্টোবর) আবারও লিসবন ও পোর্তোর কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

লিসবনের আন্দোলনকারী সংগঠন ‘আকাম্পাদা দে লিসবোয়া’ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রাসা দম পেদ্রো চতুর্থ বা রোসিও চত্বরে সমাবেশের ডাক দেয়। তাদের স্লোগান ছিল, ‘আরও বাড়ি চাই, লাঠিপেটা কমাও।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া আহ্বানে সংগঠনটি জানায়, পুলিশি অভিযানের পরও তাদের আন্দোলন টিকে আছে। আবাসনের অধিকারের দাবিতে প্রতিবাদকারীদের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া যাবে না বলেও ঘোষণা দেয় তারা।

সংগঠনটির অভিযোগ, তাঁবু সরানোর নামে বলপ্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হয়েছে। প্রতিটি আঘাতের বিপরীতে আরও সংগঠিত হওয়া এবং পারস্পরিক সংহতি বাড়ানোর আহ্বান জানায় আয়োজকেরা।

এর আগে রোববার ভোরে লিসবনের রোসিও এবং পোর্তোর প্রাসা দম জোয়াও প্রথম চত্বর থেকে আবাসন আন্দোলনের তাঁবু সরিয়ে দেয় জননিরাপত্তা পুলিশ—পিএসপি। পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে, দুই শহরে ৩১ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে লিসবনে ২৫ জন এবং পোর্তোয় ছয়জন।

আহতের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ প্রথম দিকে আট বিক্ষোভকারী ও তিন পুলিশ সদস্যসহ ১১ জন আহত হওয়ার কথা জানায়। অন্যদিকে পোর্তোর আয়োজকেরা ৩৭ জন সামান্য আহত হওয়া এবং আরও পাঁচজনের চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানান। এগুলো পৃথক পক্ষের দেওয়া হিসাব; এককভাবে নিশ্চিত মোট সংখ্যা নয়।

পোর্তোর আন্দোলনের মুখপাত্র ক্যাটারিনা দোস সান্তোস অভিযানের পরই সন্ধ্যা ৭টায় আবার জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দাবি শোনা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা চত্বর ছেড়ে যাবেন না।

তবে রোববার রাতের সমাবেশ শেষে পোর্তোয় নতুন করে রাত কাটানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। আয়োজকেরা নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, আপাতত রাতে অবস্থান না করলেও নিয়মিত জমায়েত চলবে। আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ‘কাসা পারা ভিভের’ আন্দোলনের মিছিলেও যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

লিসবনেও রোববারের গণসমাবেশ থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রোসিও চত্বরে ফিরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাড়িভাড়া ও বাসস্থানের ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চাইছেন বিক্ষোভকারীরা।