ইইউতে Non-EU নাগরিকদের স্থায়ী চাকরির সুযোগ এখনও সীমিত: ইউরোস্ট্যাট

EU migrants

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে থেকে আসা অভিবাসীরা এখনও ইইউ নাগরিকদের তুলনায় বেশি অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন। যদিও গত এক দশকে কর্মসংস্থানের বৈষম্য কিছুটা কমেছে, তবুও নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-অবস্থা এখনও চাকরির ধরন, স্থায়িত্ব এবং ব্যবসা গড়ার সুযোগকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট (Eurostat)।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোস্ট্যাটের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অ-ইইউ নাগরিকদের মধ্যে অস্থায়ী চাকরির হার সবচেয়ে বেশি ছিল। ২০২৫ সালে এ হার কমে ২২.১ শতাংশে নেমে এলেও, এটি এখনও ইইউর অন্যান্য দেশের নাগরিকদের (১২.৪ শতাংশ) এবং নিজ দেশের নাগরিকদের (১০.৭ শতাংশ) তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষণাটি ইউরোপের বৃহত্তম শ্রমবাজার জরিপ EU Labour Force Survey (EU-LFS)–এর তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এতে স্ব-কর্মসংস্থান, অস্থায়ী চাকরি এবং খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সঙ্গে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-অবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, Non-EU অভিবাসীদের মধ্যে—

  • স্ব-কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে কম।
  • অস্থায়ী চাকরির হার বেশি।
  • খণ্ডকালীন চাকরিতে কাজ করার প্রবণতা বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, দক্ষতার সঙ্গে চাকরির অমিল, সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত বাধা এই বৈষম্যের প্রধান কারণ। ফলে অনেক অভিবাসী মৌসুমি, এজেন্সিভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি চাকরিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু অভিবাসী নিজ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে মৌসুমি চাকরি অথবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে খণ্ডকালীন চাকরি বেছে নেন। তাই সব অস্থায়ী চাকরিই নেতিবাচক নয়; অনেকের জন্য এটি শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

উচ্চশিক্ষিত অভিবাসীরাও পিছিয়ে

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD)–এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিত অভিবাসীদের ৪৭ শতাংশই নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় নিম্নমানের চাকরিতে রয়েছেন অথবা কর্মহীন। যেখানে স্থানীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ।

তবে যে অভিবাসীরা স্বাগতিক দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি অর্জন করেন, তাদের অতিরিক্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কম দক্ষতার চাকরিতে থাকার ঝুঁকি প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

নারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বেশি

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ইইউতে নারীদের কর্মসংস্থানের হার ৭১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ৮১ শতাংশ।

এছাড়া নারী কর্মীদের মধ্যে—

  • ২৮ শতাংশ খণ্ডকালীন চাকরিতে রয়েছেন (পুরুষ ৮ শতাংশ)।
  • ১১ শতাংশ অস্থায়ী চাকরিতে রয়েছেন (পুরুষ ৯ শতাংশ)।
  • অপূর্ণ কর্মসংস্থানের হার নারীদের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ, পুরুষদের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ।

বিশেষ করে ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে নারী অভিবাসীদের মধ্যে অস্থায়ী চাকরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গবেষকদের মতে, সন্তান লালন-পালন, পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আতিথেয়তা ও গৃহস্থালি সেবার মতো খাতে নারীদের বেশি কর্মসংস্থান হওয়ায় তারা তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ চাকরিতে বেশি যুক্ত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-অবস্থা এখনও চাকরির স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।