ফ্রান্সের কালে শহরে অভিবাসীদের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আহত ১, শুরু তদন্ত

france-calais-migrant-clash

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের কালে (Calais) শহরে অভিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তি ৩৩ বছর বয়সী এক ইরিত্রীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালে শহরের বো-মারে (Beau Marais) এলাকার মরিস উত্রিয়ো সড়কে পল গগ্যাঁ নামের একটি ভবনের পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক অভিবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় ওই ব্যক্তিকে হাত ও পিঠে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে কালে হাসপাতাল কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি উত্তর ফ্রান্সের চলমান অভিবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে তা নির্ধারণে বিচারিক তদন্ত শুরু করা হবে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় হাজারো অভিবাসী

কালে শহরে অবস্থানরত অধিকাংশ অভিবাসীর লক্ষ্য ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো। তারা ছোট নৌকায় চ্যানেল অতিক্রম অথবা পণ্যবাহী ট্রাকে লুকিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায় শহর ও উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অস্থায়ী শিবিরগুলোতে অবস্থান করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৩৯ জন অভিবাসী অনিয়মিতভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।

অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তিন বছরের একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় ফরাসি উপকূলে নজরদারি ও টহল জোরদারে যুক্তরাজ্য ৭৭১ মিলিয়ন ইউরো আর্থিক সহায়তা দেবে।

এদিকে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমেছে।

তবে কালে ও আশপাশের এলাকায় অভিবাসীদের উপস্থিতি এবং মানবপাচার চক্রের তৎপরতার কারণে অঞ্চলটি এখনো ইউরোপের অন্যতম স্পর্শকাতর অভিবাসন করিডোর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।