পোল্যান্ডে ১১ লাখের বেশি অভিবাসী কর্মরত, ইউক্রেনীয়দের আধিপত্য; রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

poland-migrant-workers-eu

ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের অন্তত ১১ লাখ অভিবাসী কর্মরত ছিলেন। ইউরোপীয় কমিশনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশটির শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং তারা এখন পোল্যান্ডের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, আগের দুই বছরের তুলনায় অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে অভিবাসীরা পোল্যান্ডের মোট শ্রমশক্তির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রবণতা পোল্যান্ডের শ্রমবাজারে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান অন্তর্ভুক্তির প্রতিফলন।

ইউক্রেনীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি

পোল্যান্ডে কর্মরত অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ইউক্রেনের নাগরিক। গবেষণা অনুযায়ী, মোট অভিবাসী শ্রমিকের ৬৭ শতাংশই ইউক্রেনীয়।

এ ছাড়া বেলারুশ, জর্জিয়া, ভারত, কলম্বিয়া ও ফিলিপিন্সের নাগরিকরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে চীন, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের নাগরিকরাও পোল্যান্ডের বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে কর্মরত রয়েছেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অভিবাসী কর্মীদের ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ।

ভারতীয়দের শক্ত অবস্থান

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছিল, পোল্যান্ডে ভারতীয় অভিবাসীরা ব্যবসা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, খুচরা বিক্রয়, রেস্টুরেন্ট, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

২০২৩ সালের আগের দুই বছরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ ও খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধার কারণে পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় কর্মী এবং প্রায় ৫ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-পোল্যান্ড সহযোগিতা জোরদার

২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারত ও পোল্যান্ড সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। একই সঙ্গে ২০২৪-২০২৮ মেয়াদের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি ও অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত-পোল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিলিপিনো কর্মীদের শোষণের অভিযোগ

অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান মাইগ্রেশন পলিসি সেন্টারের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পোল্যান্ডে কর্মরত অনেক ফিলিপিনো শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে শোষণ ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

ফিলিপিন্স সরকারের ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, কিছু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোপে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ কিংবা উন্নত কর্মপরিবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের আকৃষ্ট করলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোল্যান্ডে বিদেশি কর্মীর চাহিদা বাড়লেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা রোধে কার্যকর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।