পর্তুগালে কৌশলগত খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর আরও কঠোর নজরদারি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটির বর্তমান বিনিয়োগ যাচাই ব্যবস্থা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শুরু করেছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ECO জানিয়েছে, নতুন ইউরোপীয় কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট কৌশলগত খাতে বিদেশি বিনিয়োগ কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট জাতীয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে অবহিত করতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৮ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ইইউ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নজরদারি জোরদার করতেই এই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে সব সদস্য রাষ্ট্রকে কার্যকর বিনিয়োগ যাচাই (Investment Screening) ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।
বর্তমানে পর্তুগালে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ জনসেবার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন বিদেশি বিনিয়োগ সরকার পর্যালোচনা বা প্রয়োজন হলে আটকে দিতে পারে। তবে নতুন ইইউ বিধিমালা বিদ্যমান ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, জ্বালানি, পরিবহন, টেলিযোগাযোগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো কৌশলগত খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
এছাড়া, ইইউভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হলেও যদি সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো বিনিয়োগকারীর হাতে থাকে, তবে সেই বিনিয়োগও নতুন যাচাই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশন ইতোমধ্যে নতুন বিধিমালা কার্যকর করেছে। তবে সদস্য দেশগুলোকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে নিজ নিজ দেশে প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য।
পর্তুগালের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আরও বিস্তৃত বিনিয়োগ যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশন ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানও জোরদার করা হবে।
