স্কোরলাইন বলছে দাপুটে জয়। তবে প্রথমার্ধে থিবো কোর্তোয়া দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে ম্যাচের গল্প অন্য রকমও হতে পারত। বেলজিয়ান গোলরক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেভের পর আক্রমণভাগের কার্যকারিতায় আরবি লাইপজিগকে ৪–১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোররাতে শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটিতে লাইপজিগকে ৪–১ গোলে হারিয়েছে জোসে মুরিনিওর দল। লিগ পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে রিয়ালের পয়েন্ট এখন ৯। গোল করেছেন বের্নার্দো, আরদা গুলের, এমবাপ্পে ও দিওমান্দে। লাইপজিগের একমাত্র গোল তিদিয়াম গোমিসের।
কোর্তোয়ার সেভে টিকে থাকা, বিরতির আগে এগিয়ে যাওয়া
শুরুর দিকে দুই দলই আক্রমণের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে সবচেয়ে বিপজ্জনক দুটি মুহূর্ত তৈরি করে লাইপজিগ। ২৮ মিনিটে রোমুলোর শট ঠেকান কোর্তোয়া। ৪১ মিনিটে এনকুনকুর সঙ্গে একের বিপক্ষে এক পরিস্থিতিতেও জিতে যান বেলজিয়ান গোলকিপার।
কোর্তোয়ার ওই সেভের তিন মিনিট পরই এগিয়ে যায় রিয়াল। ফেদেরিকো ভালভের্দের কাটব্যাক থেকে গুলেরের শট ঠেকিয়েছিলেন মার্টেন ভান্দেভোর্ত। ফিরতি বল জালে পাঠান বের্নার্দো। রিয়ালের জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
ঘটনাপ্রবাহের বিচারে এই সময়টিই ম্যাচের বড় বাঁক। গোল খাওয়ার ঝুঁকি কাটিয়ে বিরতিতে এগিয়ে যায় রিয়াল। ম্যাচের পর কোর্তোয়া নিজেও বলেছেন, প্রথম গোল ও বিরতিতে এগিয়ে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ডানপ্রান্তের বোঝাপড়ায় বাড়ল আক্রমণের গতি
মুরিনিওর ব্যবস্থায় ডানপ্রান্তে ভালভের্দে, গুলের ও বের্নার্দোর সমন্বয় কার্যকর হয়েছে। প্রথম গোলের আক্রমণও তৈরি হয় সেখান থেকেই। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মুরিনিও এই তিনজনের বোঝাপড়া এবং ভালভের্দের রক্ষণ ও আক্রমণে ভূমিকার প্রশংসা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়িয়ে সেই সুবিধা আরও কাজে লাগায় রিয়াল। ৫২ মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেড গোলের দিকে যাচ্ছিল। গুলের শেষ স্পর্শে বল জালে পাঠিয়ে করেন ২–০। দুই গোলের ব্যবধান রিয়ালকে আক্রমণ সাজানোর বাড়তি স্বস্তি দেয়।
এমবাপ্পের নৈপুণ্য, বদলি দিওমান্দের বড় অবদান
একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্টে ম্যাচসেরা হয়েছেন এমবাপ্পে। গুলেরের গোলে সহায়তার পর ৮৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজেও গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। সেই গোলে অ্যাসিস্ট দিওমান্দের।
বদলি হিসেবে নামা দিওমান্দে পরে নিজের নামও তোলেন স্কোরশিটে। ৮৫ মিনিটে গোমিস ব্যবধান কমানোর দুই মিনিট পর দুর্দান্ত ভলিতে রিয়ালের চতুর্থ গোল করেন তিনি। মুরিনিও ম্যাচের পর জানিয়েছেন, বদলি খেলোয়াড়দের দিয়ে খেলায় ভিন্ন গতি আনতে চেয়েছিলেন। দিওমান্দের গোল ও অ্যাসিস্ট সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা দেখিয়েছে।
পরিসংখ্যানে নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণে আরও কাজের প্রয়োজন
ইএসপিএনের হিসাবে রিয়ালের বল দখল ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। মোট শট ও লক্ষ্যে শটেও এগিয়ে স্বাগতিকেরা। সুযোগের মান বোঝানো প্রত্যাশিত গোলের হিসাবও তাদের আক্রমণের কার্যকারিতার পক্ষে।
| পরিসংখ্যান | রিয়াল মাদ্রিদ | আরবি লাইপজিগ |
|---|---|---|
| বল দখল | ৬৪% | ৩৬% |
| মোট শট | ১৮ | ১১ |
| লক্ষ্যে শট | ১১ | ৬ |
| প্রত্যাশিত গোল—xG | ২.৯১ | ১.৪৪ |
| কর্নার | ৭ | ১ |
তবে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে দেওয়া সুযোগ এবং শেষ দিকে গোল খাওয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন মুরিনিও। তাঁর মূল্যায়ন, দল উন্নতি করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি। ম্যাচ জেতা হয়ে গেছে ধরে নিয়ে মনোযোগ হারানোর প্রবণতাও তিনি পছন্দ করছেন না।
এরপর এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। বড় জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই ম্যাচে গেলেও রক্ষণে মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টি সামনে থাকছে। বিস্তারিত দেখুন রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী খেলার সময়সূচিতে।
