বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের অভিবাসীদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে রোমানিয়ার পুলিশ। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন ও অভিবাসী পাচারের এ মামলায় শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশটির কারাশ-সেভেরিন কাউন্টিতে ছয়টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
রোমানিয়ার পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে দেশটির বার্তা সংস্থা আজেরপ্রেস জানিয়েছে, কারাশ-সেভেরিনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের পুলিশ এবং সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাস তদন্ত অধিদপ্তরের (ডিআইআইসিওটি) স্থানীয় কার্যালয়ের প্রসিকিউটররা যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে চক্রটি সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। সদস্যরা অভিবাসীদের সংগ্রহ, পথ দেখানো, সাময়িক আশ্রয় এবং পরিবহনের ব্যবস্থা করতেন। পরে তাঁদের ট্রাকে লুকিয়ে হাঙ্গেরি হয়ে অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে নেওয়ার আয়োজন করা হতো।
ডিআইআইসিওটির তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করা ছিল। কেউ পরিবহন সমন্বয় করতেন, কেউ নির্দিষ্ট জায়গা থেকে অভিবাসীদের নিয়ে আসতেন। অন্যরা আশ্রয় দেওয়া এবং ট্রাকের পণ্যের মধ্যে তাঁদের লুকিয়ে তোলার কাজ করতেন বলে অভিযোগ। চলাচলের পথে পুলিশের উপস্থিতির তথ্য আদান-প্রদানও করা হতো।
তদন্তে সাধারণত ২০ থেকে ২৫ জনের দল নিয়ে একাধিকবার পরিবহনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের আগস্টে রোমানিয়া–হাঙ্গেরি সীমান্তের কাছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিশর ও ঘানার মোট ৬০ জন নাগরিককে শনাক্ত করা হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি, চক্রটির মাধ্যমে তাঁরা অবৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং বৈধ প্রবেশের নথি তাঁদের কাছে ছিল না। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, প্রকাশিত তথ্যে তা উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযানের দিন ডিআইআইসিওটির কারাশ-সেভেরিন কার্যালয়ে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিমিশোয়ারা, আরাদ ও কারানসেবেশের পুলিশ, নাদলাক সীমান্ত পুলিশের সদস্য, বিশেষ অভিযান দল এবং স্থানীয় জেন্ডারমেরি অভিযানে সহায়তা করে।
তদন্তের আওতায় থাকা ছয়জনকে এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তাধীন।
