থাইরয়েডে সমস্যার লক্ষণ: শরীরে যেসব পরিবর্তন দেখলে সতর্ক হবেন

thyroid-problem-symptoms

থাইরয়েড শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি, যা বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি হরমোন তৈরি হলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের—থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেশি তৈরি হলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ

থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • সবসময় বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করা
  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগা
  • কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • চুল শুষ্ক হওয়া বা চুল পড়া
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
  • স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা
  • মন খারাপ বা বিষণ্নতা
  • পেশিতে দুর্বলতা বা ব্যথা
  • কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা কর্কশ হওয়া
  • নারীদের মাসিক অনিয়মিত বা অতিরিক্ত হওয়া

এসব লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে এবং শুরুতে অনেকের কাছে তা সহজে ধরা পড়ে না।

হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ

থাইরয়েড থেকে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে—

  • চেষ্টা না করেও ওজন কমে যাওয়া
  • হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া বা বুক ধড়ফড় করা
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • গরম সহ্য করতে না পারা
  • উদ্বেগ, অস্থিরতা বা খিটখিটে মেজাজ
  • হাত কাঁপা
  • ঘুমের সমস্যা
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ক্লান্তি
  • পেশির দুর্বলতা
  • ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
  • ঘন ঘন পায়খানা বা ডায়রিয়া
  • ঘাড়ের সামনের অংশে ফুলে ওঠা বা গলগণ্ড
  • কিছু ক্ষেত্রে চোখ লাল, শুষ্ক বা ফোলা দেখা দেওয়া

ঘাড়ে ফোলা বা গুটি হলে কী করবেন?

থাইরয়েডের আকার বেড়ে গেলে ঘাড়ের নিচের দিকে ফোলা দেখা দিতে পারে। আবার থাইরয়েডে গুটি থাকলেও অনেক সময় কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে গুটি বড় হয়ে গেলে গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা বা গরম অসহ্য লাগা কিংবা ঘাড়ে ফোলা বা গুটি—এ ধরনের একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব উপসর্গ শুধু থাইরয়েডের সমস্যার কারণেই হয় না; অন্যান্য শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক সাধারণত উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি রক্তে থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা বা ঘাড়ের আল্ট্রাসনোগ্রাফির পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

মনে রাখবেন: শুধু উপসর্গ দেখে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস)।