আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এক দিনে প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ডলারের দরপতন, তেলের দাম কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোনার বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৩ দশমিক ৩৪ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৯৫ দশমিক ৬০ ডলার হয়।
ডলার দুর্বল, তেলের দাম কমেছে
বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের সূচক দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ডলারের দাম কমলে অন্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের কাছে সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা বাড়ে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপও কমতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশাও সোনার দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
ফেডের সিদ্ধান্তে নজর
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। বুধবার সুদহার নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।
সাধারণত সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড ও সুদভিত্তিক সম্পদ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিপরীতে সুদহার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বাড়ে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলের দাম কম থাকা, ডলারের আরও দরপতন এবং ফেডের নমনীয় অবস্থান সোনার দামকে আরও সহায়তা করতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
রুপা-প্লাটিনামের দামও বেড়েছে
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ১৬ ডলার হয়েছে।
প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৩ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৮২ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠেছে।
চীনে বেড়েছে সোনার আমদানি
বিশ্বের অন্যতম বড় সোনার বাজার চীনে আমদানি বেড়েছে। জুনে হংকং হয়ে চীনের নিট সোনা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৫০ দশমিক ৬৭৯ টনে পৌঁছেছে।
তবে মে মাসের তুলনায় জুনে আমদানি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার মজুত আড়াই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধাতুটির চাহিদা দীর্ঘ মেয়াদে দামকে সমর্থন করছে। তবে ডলারের মূল্য, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই এখন সোনার বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
