পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ন্যূনতম বৈধ বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি নতুন গবেষণা। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে আগামী ১০ বছরে পর্তুগালের অর্থনীতিতে ১৫.৯ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসা জানিয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্টোনিও লেইতাঁও আমারো-এর সঙ্গে বৈঠকের আবেদন করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন আইন বিদেশি বাসিন্দা, বিনিয়োগকারী এবং দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে পর্তুগালের আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে।
কী বলছে গবেষণা?
গবেষণায় নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে বৈধভাবে বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোল্ডেন ভিসার সম্পত্তি বিনিয়োগ সুবিধা বন্ধ, নন-হ্যাবিচুয়াল রেসিডেন্ট (NHR) কর সুবিধা বাতিল এবং এআইএমএ (AIMA)-এর প্রশাসনিক জটিলতার সম্মিলিত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গবেষণার মূল (বেসলাইন) পূর্বাভাস অনুযায়ী—
- ২০২৬ সালে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি ৪০১ মিলিয়ন ইউরো
- পাঁচ বছরে ৫.৫৩ বিলিয়ন ইউরো
- ১০ বছরে ১৫.৯ বিলিয়ন ইউরো
অন্যদিকে, যদি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পর্তুগালের নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে আস্থা আরও কমে যায়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে—
- প্রথম বছরে ৬৫৫.১ মিলিয়ন ইউরো
- পাঁচ বছরে ৮.৩৭ বিলিয়ন ইউরো
- ১০ বছরে ২৩.৫৪ বিলিয়ন ইউরো
রাজস্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলেও প্রভাব
গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন আইনের ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। প্রথম বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি ৭৬.৬ থেকে ১০৮.৪ মিলিয়ন ইউরো, যা ১০ বছরে ৪.৫২ থেকে ৬.৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাতে পারে।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে (Social Security) অবদান কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রথম বছরে এই খাতে ৩৫.৬ থেকে ৬০.৬ মিলিয়ন ইউরো এবং ১০ বছরে ২.৮৮ থেকে ৪.৮৯ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব
গবেষণা অনুযায়ী, বিদেশি বাসিন্দাদের ভোগব্যয় কমে গেলে আবাসন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা, পর্যটন ও অন্যান্য স্থানীয় সেবা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে আইনজীবী, কর পরামর্শক, নোটারি, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এবং রিলোকেশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও কমতে পারে। এসব খাতে ১০ বছরে ৬১৮.৮ থেকে ৯০২.৬ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় প্রথম বছরেই ১৩০.৭ থেকে ২৭৪.১ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০৩৬ সালের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ ১.৮১ থেকে ৩.৭৯ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে যেসব অঞ্চলে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বেশি থাকায় লিসবন, আলগারভ এবং পোর্তো মহানগর অঞ্চল সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
তবে পর্তুগাল সরকার বলছে, প্রস্তাবিত সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্বপ্রার্থীদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, অভিবাসীদের কার্যকর সংযুক্তি নিশ্চিত করা এবং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করা। তবে এসব আইন এখনও সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
